মঙ্গলবার ভোরে চালানো এই হামলায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে সামান্য ভৌত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়। পরবর্তী খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের অংশ হিসেবে আরও ড্রোন ওই এলাকায় লক্ষ্যস্থির করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম নিউজ নেশনকে জানান, দূতাবাসে হামলা এবং কয়েকজন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার জবাব খুব শিগগিরই স্পষ্ট করা হবে। তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই জানতে পারবেন।”
হামলার পর রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং দূতাবাসে আগুনের শিখা দেখা যায়। তবে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও একটি সূত্র জানায়, ড্রোন হামলার পর যে আগুন লাগে তা ছিল ছোট পরিসরের।
হামলার সময় দূতাবাস ভবনটি খালি ছিল এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।
সৌদি সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফরাসি বার্তা সংস্থাকে জানায়, রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় লক্ষ্য করে ছোড়া চারটি ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে।
এদিকে মঙ্গলবার পৃথক এক ঘোষণায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ভোরে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা তাদের বার্তায় জানায়, নৌবাহিনী পরিচালিত এই হামলায় ২০টি ড্রোন ও তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় এবং ঘাঁটির প্রধান কমান্ড কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
গত শনিবার ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ চলছে। আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।