আয়কর বার্তা : ভোলা পৌরসভা মহিলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সাওদা সুমিকে গ্রেপ্তার মানবাধিকার পরিপন্থী বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের পক্ষ থেকে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন। জামায়াত জানায়, ভোলা পৌরসভা মহিলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সাওদা সুমিকে গত ৫ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কর্মী সাওদা সুমি সরকারের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—যা সম্পূর্ণ অন্যায়, অমানবিক, নিন্দনীয় এবং মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আমি এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংবিধান স্বীকৃত নাগরিক অধিকার। সরকারবিরোধী মত প্রকাশ করলেই কাউকে গ্রেপ্তার করা স্বাধীন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী এবং আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত।
বর্তমান সরকার ক্রমাগতভাবে বিরোধী মত ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কণ্ঠ রোধ করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে ব্যবহার করছে দাবি করে তিনি বলেন, জামায়াতের নারী কর্মী সাওদা সুমির গ্রেপ্তার সরকারের দমনমূলক ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, একটি স্বাধীন দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মত প্রকাশ করাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের গ্রেপ্তার দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরো অস্থির করে তুলবে এবং জনগণের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করবে।
তিনি দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, আইনজীবী সমাজ, সাংবাদিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাসমূহের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে, প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মহলকে এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের নাগরিকদের ওপর জুলুম-নির্যাতন ও দমন-পীড়ন চালিয়ে কোনো সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। জনগণের অধিকার হরণ করে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানোর দায় সরকারকেই নিতে হবে।
অবিলম্বে সাওদা সুমির নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে জুলুম-নির্যাতন বন্ধ করে জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।