আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সোমবারের মধ্যে চুক্তি না করলে বা হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের ওপর ‘নরক নামিয়ে আনার’ যে চরম হুমকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তা অবলীলায় ছুড়ে ফেলেছে তেহরান। মার্কিন রক্তচক্ষুকে পাত্তা না দিয়ে ইরান উল্টো হুশিয়ারি দিয়েছে, দম্ভের বশে এমন কোনো পদক্ষেপ নিলে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই দোজখের দরজা খুলে যাবে। তেহরান ট্রাম্পকে ‘অসহায় ও দিশেহারা’ বলেও উপহাস করেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
শনিবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘মনে আছে, আমি ইরানকে চুক্তি করতে বা হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ১০ দিনের সময় দিয়েছিলাম।’ ২৬ মার্চ দেওয়া সেই আলটিমেটামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সময় শেষ হয়ে আসছেÑ আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা, এর পরই তাদের ওপর নরক বা সব ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসবে।’
তবে ট্রাম্পের এই চরমপত্রকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড। ইরানের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা জেনারেল আলী আবদুল্লাহি আলী আবাদি ট্রাম্পের এই হুমকিকে একটি ‘অসহায়, দিশেহারা, ভারসাম্যহীন ও মূর্খামি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষাতেই তাকে পাল্টা হুংকার দিয়ে ওই ইরানি জেনারেল বলেন, ‘আমাদের ওপর নয়, বরং আপনাদের জন্যই দোজখের দরজা খুলে যাবে।’
শুধু সামরিক কমান্ডই নয়, ট্রাম্পের এই ফাঁপা বুলির কড়া জবাব দিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এক কড়া বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে তাদের নিñিদ্র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন ‘হাস্যকর নাটকের’ কাছে মাথা নত করে জাতির শত্রুদের জন্য কোনোভাবেই এই প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও সুর চড়িয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভয় দেখিয়ে বা জোর করে ইরানকে কখনও মাথা নোয়াতে বাধ্য করা যাবে না। মার্কিন পরাশক্তি এখন চোরাবালিতে আটকে পড়া হাতির মতো কেবলই আস্ফালন করছে উল্লেখ করে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের দাবিগুলোকে ‘ভুয়া ও ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়েছে। তাদের প্রতিটি আগ্রাসনের জবাব এমনভাবে দেওয়া হবে, যা ওয়াশিংটনের কর্তাব্যক্তিরা কল্পনাও করতে পারবেন না।
এই তীব্র বাগ্?যুদ্ধের মধ্যেই ট্রাম্প রাতের আকাশে ভয়াবহ বিস্ফোরণের একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওর সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘তেহরানে এই ব্যাপক হামলার মাধ্যমে ইরানের অনেক সামরিক নেতাকে... এবং আরও অনেক কিছু শেষ করে দেওয়া হয়েছে।’ তবে ভিডিওতে দেখানো ওই হামলা ঠিক কখন চালানো হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি। সমরবিশারদদের মতে, রণক্ষেত্রে নাকাল হয়ে ট্রাম্প এখন মনস্তাত্ত্বিক চাপের খেলায় মাততে চাইছেন, যা তার দিশেহারা অবস্থারই আরেক প্রমাণ।