আয়কর বার্তা রিপোর্ট: রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হিসেবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি ইনসাফভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে দলটি সুদৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
আজ শুক্রবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসন্ন নির্বাচনে তারেক রহমান দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং এটিই তার প্রথম ইশতেহার।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ সময় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিগত আন্দোলনে বিএনপির শহীদ নেতাকর্মী ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের জন্য আল্লাহর দরবারে হাত তুলে মোনাজাত করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের পরিচালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুম্মন, শায়রুল কবির খান প্রমুখ।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ সময় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিগত আন্দোলনে বিএনপির শহীদ নেতাকর্মী ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের জন্য আল্লাহর দরবারে হাত তুলে মোনাজাত করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের পরিচালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুম্মন, শায়রুল কবির খান প্রমুখ।
ইশতেহারকে পাঁচটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এতে মোট ৫১টি দফাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
ইশতেহারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বিস্তৃত সংস্কার ও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড চালু, জনগণের কল্যাণে বহুমুখী সহায়তা কর্মসূচি, যুবকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং জাতি গঠনে ‘ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনসহ দেশের কাঠামো ও পরিবেশের উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা।
ইশতেহারে আওয়ামী লীগের শাসনামলে পুঁজিবাজারে সংঘটিত অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির তদন্ত, খতিব-ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী প্রদানসহ বিভিন্ন জনমুখী ইস্যুকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দেওয়া, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। নারী ও তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইশতেহারের বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করা হয়েছে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ছয় দিন আগে আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিএনপি’র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।
বিএনপি জানায়, দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা এবং জুলাই জাতীয় সনদের সমন্বয়েই এই নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে।
ইশতেহারে বলা হয়, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতাকে সমুন্নত রেখে ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি ইনসাফ-ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে দলটি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হিসেবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে।
ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০, তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা এবং জুলাই জাতীয় সনদে যেসব বিষয়ে যে আঙ্গিকে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো সেভাবেই বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
নির্বাচন ব্যবস্থা ও সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপি বলেছে, ‘ভোটকে রাষ্ট্রক্ষমতায় একমাত্র বৈধ উৎস হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। নির্বাচন ব্যবস্থা ও সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে। ফ্যাসিবাদ ও বিদেশি তাঁবেদারিত্বের কোনো পুনরাবৃত্তি আর হতে দেওয়া হবে না। সমাজের সব স্তরে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে একটি প্রকৃত জনকল্যাণমূলক সরকার গঠন করা হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংরক্ষণ ও বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
বিএনপি’র ইশতেহারে বলা হয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং হার্ডওয়্যার উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। এই খাতে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সবার জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতের গ্রাহক ও ব্যবসায়িক চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে একটি যুগোপযোগী ‘কানেক্টিভিটি ম্যানেজমেন্ট’ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে।
রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এটি স্বল্পমেয়াদে ২ শতাংশ এবং মধ্যমেয়াদে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। সরকারের ব্যয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, রাজস্ব ব্যবস্থার ন্যায্যতা ও রাষ্ট্রীয় বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।
দলটি বলেছে, দেশের সব অঞ্চলে সমতাভিত্তিক সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্ষমতায় গেলে নগরায়ণ ও আবাসনে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হবে। সীমিত আয়ের মানুষ ও বস্তিবাসীদের জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। সমন্বিত বর্জ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা, ‘ভূমি ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা, ‘ভূমিসেবা মেলা’ আয়োজন, স্থানীয় সরকার ক্ষমতায়ন এবং ‘সিটিজেনস সার্ভিস কর্নার’ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
নিজ ধর্ম পালনে প্রত্যেককে স্বাধীনতা দিতে চায় বিএনপি। দলের ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। প্রত্যেক নাগরিক নিজের ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন। কাউকে কোনো নাগরিকের ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করতে দেওয়া হবে না। খতিব, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
গণমাধ্যম বিষয়ে বিএনপি’র প্রতিশ্রুতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও কাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। আইনি জটিলতা ও হয়রানি দমন করা হবে এবং রাজনৈতিক পক্ষপাত বন্ধ করা হবে। জবাবদিহিমূলক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রতিষ্ঠা ও সাংবাদিক হত্যায় বিচার নিশ্চিত করা হবে। সংবাদমাধ্যম কর্মীদের কল্যাণে জাতীয় সাংবাদিক অবসর কল্যাণ বোর্ড গঠন করা হবে।