অ্যাডভোকেট মো: মামুনুর রশিদ
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত বারোটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং তিনটি জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনমত গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো গণভোট। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ের ওপর জনগণের সমর্থন আছে কি নাই, তা যাচাইয়ের জন্য যে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় তাকে গণভোট বলে। গণভোটে 'হ্যাঁ' অথবা 'না'-তে সিল দেওয়া হয়।
গণভোট হলো কোনো নির্দিষ্ট প্রস্তাব, আইন বা রাজনৈতিক ইস্যুতে ভোটারদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়া। এখানে তাঁরা তাঁদের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার বদলে নীতিগত এক বা একাধিক বিষয়ে সরাসরি নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন। এটি বাধ্যতামূলক হতে পারে, যা একটি নতুন নীতি গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অথবা এটি একটি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতে পারে, যা বৃহৎ আকারের মতামত জরিপের মতো। স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে এ পর্যন্ত ৩টি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর সেগুলো হলো: (ক) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আস্থা গণভোট ১৯৭৭, বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় ৩০শে মে ১৯৭৭ সালে অনুষ্ঠিত হয়। ভোটারদের কাছে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনি কি রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) প্রতি এবং তার দ্বারা গৃহীত নীতি ও কার্যক্রমের প্রতি আস্থাশীল? ভোটের ফলাফল ছিল, ৯৮.৯% হ্যাঁ এবং মোট ভোট সংগৃহীত হয়েছিল, ৮৮.১%।
এই ভোটের পটভূমি: ১৯৭৭ সালের ২২শে এপ্রিল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়ে জাতির উদ্দেশে বেতার ও টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে গণভোটের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেনাপ্রধান থেকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়া জিয়াউর রহমানের শাসনকাজের বৈধতা দেওয়া এবং তাঁর নীতি ও কর্মসূচির প্রতি আস্থা আছে কি না, সে বিষয়ে দেশের জনগণের মতামত জানতে ওই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল।
(খ) বাংলাদেশের সামরিক শাসনের গণভোট ১৯৮৫, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য ২১শে মার্চ ১৯৮৫ সালে অনুষ্ঠিত হয়। যিনি ১৯৮২ সালে নির্বাচিত সরকারের অধীনে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং প্রধান সামরিক প্রশাসক হিসেবে দেশ শাসন করেন। গণভোটে ভোটারদের কাছে জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি কি রাষ্ট্রপতি এরশাদের গৃহীত নীতি সমর্থন করেন এবং আপনি কি চান, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পূর্ব পর্যন্ত তিনি তার প্রশাসন পরিচালনা করবেন?
ফলাফল ছিল ৯৪.৫% হ্যাঁ এবং মোট ৭২.২% ভোট সংগৃহীত হয়েছিল। বিরোধীরা গণভোটের দিন সাধারণ ধর্মঘটের আয়োজন করেন এবং ফলাফল পূর্বনির্ধারিত বলে ঘোষণা করেন।
(গ) বাংলাদেশের সাংবিধানিক গণভোট ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে একটি সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ভোটারদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান (দ্বাদশ সংশোধন) বিল, ১৯৯১-এ রাষ্ট্রপতির সম্মতি দেওয়া উচিত কি না?" সংশোধনীগুলি সংসদীয় সরকারের পুনঃপ্রবর্তনের দিকে পরিচালিত করবে, রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক রাষ্ট্রের প্রধান হবেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হবেন নির্বাহী প্রধান। এটি উপ-রাষ্ট্রপতির পদটিও বিলুপ্ত করে এবং সংসদ কর্তৃক রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে। ফলাফলের পক্ষে ৮৩.৬% ভোট পড়েছে, ৩৫.২% ভোট বিপক্ষে পড়েছে।
(ঘ) ১৯৪৭ এর গণভোট: ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ভাগ করে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত হলেও প্রশ্ন ওঠে আসামের অংশ সিলেটের ভাগ্যে কী হবে। মুসলমান আর হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ভারতকে ভাগ করার যে দায়িত্ব পড়েছিল লর্ড মাউন্টব্যাটেনের ওপর। ১৯৪৭র ৩রা জুন এক ঘোষণায় তিনি সিলেটের ভবিষ্যৎ নির্ধারনের দায়িত্ব দেন স্থানীয় জনসাধারণের কাঁধে। সিদ্ধান্ত হলো গণভোট অনুষ্ঠানের।
এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ই জুলাই সিলেটে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এ গণভোটে সিলেট উত্তর, করিমগঞ্জ, হবিগঞ্জ, দক্ষিণ সিলেট (মৌলভীবাজার), সুনামগঞ্জ-এর জনগন অংশগ্রহণ করে। যেখানে মোট ভোটার ছিল ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৮১৫ জন। ভোট দিয়েছিল ৭৭ শতাংশ মানুষ। ২৩৯ টি ভোটকেন্দ্রে বড় কোনো ঝামেলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছিল বলে তথ্য সূত্রে জানা যায়। ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী সিলেটের গণভোট সংক্রান্ত কার্যক্রমের বৈধতা দেয়া হয়েছে।
(ঙ) গণভোট-২০২৬, জাতীয় সংসদ নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেও এ পথচলা সবসময় নিরবচ্ছিন্ন বা বিতর্কহীন ছিল না। সময়ের প্রবাহে কিছু নির্বাচন এমনভাবে আলোচিত কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে 'নকল' ও 'প্রক্সি' নির্বাচনের মতো হয়েছে যে সেগুলো 'রাতের ভোট', 'ভোটারহীন নির্বাচন', বিশেষণ অর্জন করেছে। বিশেষত, সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরের তিনটি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দেশে-বিদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে একতরফা 'ভোটারহীন নির্বাচন', ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে একতরফা 'ভোটারহীন নির্বাচন ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে 'রাতের ভোট' এবং ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে 'ডামি' বা 'প্রক্সি' নির্বাচন হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। এরপর থেকে একের পর এক ঘটনায় তৎকালীন সরকারের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। যার পরিসমাপ্তি ঘটে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে। অবসান ঘটে দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার। শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেষ হাসিনা। এর পরপরই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্র্বতীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে, যার মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠন করা।
এই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে 'জুলাই জাতীয় সনদ' প্রণয়ন করা হয়, যা বাংলাদেশের সংবিধান পুনর্গঠনের জন্য একটি জাতীয় রূপরেখা হিসেবে বিবেচিত। সনদে প্রস্তাবিত হয়েছিল- সংসদ, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্নিমাণ, নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা।
এই সনদের বৈধতা এবং জনগণের অনুমোদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান অন্তর্বতী সরকার ২০২৬ সালে একটি জাতীয় গণভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গণভোটের মাধ্যমে নাগরিক প্রত্যক্ষভাবে তাঁদের মতামত প্রদান করবে যে, জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে নতুন সংবিধান বাস্তবায়িত হবে কি না। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। গণভোট অনুষ্ঠিত হবে চারটি বিষয়ের ওপর। মোট চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে 'হ্যাঁ' বা 'না' ভোট দিয়ে জনগণ মতামত জানাবেন। যে চার বিষয়ে গণভোট হবে। ১. নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে। ২. আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে। ৩. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে। ৪. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশন: নির্বাচন হলো একটি আনুষ্ঠানিক দলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একটি জনগোষ্ঠী একজন বা একাধিক ব্যক্তিকে সরকার পরিচালনার জন্য বেছে নেন। বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বড়ো কর্মযজ্ঞ হলো নির্বাচন। নির্বাচন শুধু ভোট দেওয়া নয়। এটি জনগণের ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যম। বাংলাদেশে নির্বাচন পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি স্বতন্ত্র সংস্থা আছে যা, নির্বাচন কমিশন (Election Commission, EC) নামে পরিচিত। এটি সংবিধান অনুযায়ী গঠিত একটি স্বাধীন সংস্থা, যা সরকারের প্রভাব থেকে মুক্ত। নির্বাচন কমিশন জাতীয় ও স্থানীয় পরিষদের নির্বাচন-সহ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রায় সব স্তরের নির্বাচনের ব্যবস্থাপক। এ কারণেই নির্বাচন কমিশনকে সরকারনিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে হয়। নির্বাচন কমিশনের ওপর সরকার যেন প্রভাববিস্তার করতে না পারে, এজন্য সাংবিধানিকভাবে এর স্বতন্ত্র পরিচালনা কাঠামো থাকে। কমিশন সাধারণত ৫ বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত থাকে এবং সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করে। বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন প্রধানত জাতীয় নির্বাচন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, উপনির্বাচন। (by-election) পরিচালনা করে।
নির্বাচন কমিশনের কাঠামো:
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং সাধারণ কমিশনারদের নিয়ে গঠিত। (ক) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner, CEC) কমিশনের সর্বোচ্চ প্রধান। (খ) কমিশনার Election Commissioner) নির্বাচন কমিশন সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কমিশন সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার সভাপতিত্ব করেন। (গ) কমিশন সাধারণত ৫ বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত থাকে এবং সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করে।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ শাসনের পতনের এক মাস পর ৫ই সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। দেড় মাস শূন্য থাকার পর একই বছর ২৪শে নভেম্বর অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ,এম,এম, নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। এ কমিশনের কাজ হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করা।
নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব হলো: (১) নির্বাচন পরিকল্পনা, সময়সূচি এবং তদারকি করা। (২) ভোটার তালিকা তৈরি, হালনাগাদ ও যাচাই করা। (৩) প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া নির্ধারণ এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করা। (৪) নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। (৫)নির্বাচনে আইন ভঙ্গ হলে ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রার্থীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা। (৬) ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা করা। (৭) নির্বাচনি বাজেট এবং ভোটিং ব্যবস্থার তদারকি করা।
সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব: ১১৯ (১) রাষ্ট্রপতি পদের ও সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার-তালিকা প্রস্তুতকরণের তত্ত্বাবধান, নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ এবং অনুরূপ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং নির্বাচন কমিশন এই সংবিধান ও আইনানুযায়ী (ক) রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করিবেন; (খ) সংসদ-সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করিবেন; (গ) সংসদে নির্বাচনের জন্য নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ করিবেন; এবং (ঘ) রাষ্ট্রপতির পদের এবং সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার-তালিকা প্রস্তুত করিবেন।
(২) উপরি-উক্ত দফাসমূহে নির্ধারিত দায়িত্বসমূহের অতিরিক্ত যেরূপ দায়িত্ব এই সংবিধান বা অন্য কোন আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে, নির্বাচন কমিশন সেইরূপ। দায়িত্ব পালন করিবেন।
এরই আলোকে নির্বাচন কমিশনের কাজ হলো: (১) ভোটার তালিকা প্রস্তুতি: সব নাগরিকের ভোটার পরিচয় নিশ্চিত করা। (২) রাজনৈতিক দল নিবন্ধন: নির্বাচন উপলক্ষ্যে দলের ও প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই ও নিবন্ধন। (৩) নির্বাচনি আচরণবিধি জারি: প্রার্থী ও দলের আচরণ, প্রচারণা, ব্যয়সীমা ইত্যাদির নিয়ম। (৪) ভোটগ্রহণ ও তদারকি: কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার তদারকি। (৫) ফলাফল ঘোষণা: ভোট গণনা, ফলাফল প্রকাশ এবং কোনো বিতর্ক হলে সমাধান। (৬) প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কাজ: ভোটার ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সাধারণ মানুষকে ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা।
তথ্যসূত্র: পিআইবি, নির্বাচন প্রতিবেদন নির্দেশিকা, বিবিসি ও উইকিপিডিয়া।