প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:০২ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাজেটের আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা

আয়কর বার্তা রিপোর্ট:

উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃজন ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে উচ্চাভিলাষী ব্যয়ের বাজেট দিতে যাচ্ছে সরকার। এ বাজেটের আকার ৯ লাখ ২০ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতসহ বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি বা অবনতির ওপর ভিত্তি করে এ সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। এ ছাড়া আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৩ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি ৭.২ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। অন্যদিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে চাপের মধ্যে থাকা অর্থনীতি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে আরও সংকটে পড়লেও ব্যয় কমানোর সুযোগ থাকছে সীমিত। ফলে বাড়তি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হচ্ছে সরকারকে। অবশ্য বড় বাজেটের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগও অব্যাহত থাকবে।

জানা গেছে, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুসারে দেশের বন্ধ ও রুগ্ণ কারখানা চালু করতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে একটি বড় ফান্ড গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক ও বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ সহায়তা নিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছে সরকারের কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল।

বাজেট তৈরিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলা, ভর্তুকি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আগামী অর্থবছরে বাজেট ব্যয় বাড়বে। এর সঙ্গে বাড়তি সুদ পরিশোধ ও সরকারি কর্মচারী আংশিক বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনার ফলে বাজেট বড় করতে হচ্ছে।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটের প্রায় ৬৭ শতাংশ পরিচালন খাতে ব্যয় করা হবে। বাকি ৩৩ শতাংশ ব্যয় ধরা হয়েছে উন্নয়ন খাতে। সরকার নতুন উন্নয়ন প্রকল্প নেবে ঠিকই, তাতে বড় খরচ করার পরিকল্পনা আপাতত করছে না।

জানা গেছে, সরকার আগামী অর্থবছরে ৫০ লাখ পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ ছাড়া প্রকৃত কৃষক, মৎস্যজীবী ও প্রাণিসম্পদ খামারিদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ দেবে সরকার। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির আওতায় ১২-১৪ বছরের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের বৃত্তি প্রদান করা হবে। এর বাইরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেও সরকারকে বাড়তি খরচ করতে হবে। এসব কাজে আগামী অর্থবছরে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা খরচ করতে হবে।

বাজেট তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তারা আরও জানান, এসব পরিকল্পনার আলোকে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাজেটের আকার ৯ লাখ ২০ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা করার পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি বা অবনতির ওপর ভিত্তি করে এ সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতসহ বৈশ্বিক পরিস্থিতি এতে প্রভাব ফেলতে পারে। সরকার আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ২ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে প্রায় ছয় লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে প্রায় দুই লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যে রাখা হবে। এ ঘাটতির মধ্যে প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ ঋণের মাধ্যমে এবং বাকি এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ থেকে সংগ্রহ করা হবে। এর একটি বড় অংশ বাজেট সহায়তা হিসেবে পাওয়ার আশা করছে সরকার। রাজস্ব বাড়াতে ভ্যাট অব্যাহতি কমানো এবং রাজস্ব আদায় কার্যক্রম ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জানা গেছে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকির চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাবে সরকারের বাজেট ঘাটতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত আমদানি ব্যয় মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও চাপ বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৯ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা সাশ্রয় করার চেষ্টা করছে। এ ধারা আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও অব্যাহত থাকবে। সে ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় বা কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নেওয়া থেকে বিরত থাকবে সরকার।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়