মানিকগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচন ঘিরে শেষপর্যন্ত জমে ওঠে সাধারণ সম্পাদক পদে লড়াই। ১৫টি পদের মধ্যে বিএনপি প্যানেলের ১৪ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও একমাত্র সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় বিজয়ী। আর সেই পদেও জয় পায় বিএনপি প্যানেল।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে কেবল সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৬১৪ জন ভোটারের মধ্যে ৪৪৭ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটের ফলাফলে বিএনপি প্যানেলের প্রার্থী এমএম শফিউল আজম ৩৪০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আজাদ হোসেন খান পান ১০৭ ভোট।
উল্লেখ্য, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেন খান এবার বিএনপি প্যানেল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে ‘বিদ্রোহী’ বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে ভোটের রায়ে শেষপর্যন্ত বিজয়ের হাসি ফোটে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর মুখে।
সমিতি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন পদে মোট ৩০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন ১৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে এবং একজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। ফলে ১৫টি পদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বাকি ১৪টি পদেই বিএনপি প্যানেলের প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মেজবাউল হক মেজবা, নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ও নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট আব্দুল আওয়াল খান ফলাফল ঘোষণা করেন।
বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা হলেন— সভাপতি জসিম উদ্দিন আহম্মেদ, সহ-সভাপতি সানজিদা রহমান সিদ্দিকী, সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম খান, অর্থ সম্পাদক মো. দ্বীন ইসলাম, পাঠাগার সম্পাদক মোহাম্মদ ফরহাদ খান, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সোহেলী আজাদ, নিরীক্ষক মো. সোহেল রানা ও মোহাম্মদ আব্দুল মালেক।
সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন- দেওয়ান হাবিবুর রহমান, মো. সাত্তার উদ্দিন, মো. শহিদুল্লাহ, মো. আলহাজ মিয়া ও মো. কাওসার হোসেন।
সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে ১৫টি পদেই বিএনপি প্যানেলের প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত হয়েছে। একমাত্র সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটের উত্তাপ থাকলেও দিন শেষে ফলাফল একপক্ষীয় আধিপত্যই প্রকাশ করেছে।