আয়কর বার্তা রিপোর্ট:
পহেলা বৈশাখ ১৪ এপ্রিল ২০২৬ উপলক্ষে কুষ্টিয়া সোসাইটি বনশ্রী সেমিনার ও আনন্দমেলার আয়োজন করে। সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদার করা, ভিন্নমতের মানুষকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করা এবং সহিংসতা ও বিভেদ কমানোর জন্য সচেতনতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে সকল ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির মানুষের মধ্যে সহাবস্থান, সহনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ একটি বহুধর্মী ও বহুসাংস্কৃতিক দেশ হলেও কিছু ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা লক্ষ্য করা যায়। গুজব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানির কারণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, রাজনৈতিক স্বার্থে বিভেদ সৃষ্টি, আইনের দুর্বল প্রয়োগ ও বিচারহীনতা, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সহনশীলতার অভাব, এসব কারণে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হয়, যা জাতীয় ঐক্য ও উন্নয়নের জন্য হুমকিস্বরূপ।
সভাপতির বক্তব্যে কুষ্টিয়া সোসাইটি বনশ্রীর সভাপতি ব্যবসায়ী মোঃ আমিনুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, “বাংলাদেশের মূল শক্তি আমাদের ঐক্য ও সম্প্রীতি। এই দেশ সব ধর্মের মানুষের রক্তে অর্জিত। সাম্প্রদায়িক বিভেদ আমাদের সংস্কৃতির অংশ নয়। আমরা যদি পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই, তাহলে কোনো অপশক্তি আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে সম্প্রীতির চর্চা করতে হবে এবং তরুণ প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে হবে। ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, সামাজিক সংগঠন—সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার জন্য।” সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সোসাইটির অ্যাডভাইজার ও নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ডঃ আফরোজা পারভীন তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কেবল একটি নৈতিক বিষয় নয়, এটি একটি উন্নত ও টেকসই সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত। যখন সমাজে বৈষম্য ও ভিন্নমত দমনের প্রবণতা বাড়ে, তখন সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। তিনি উল্লেখ করেন, নারী ও শিশুরা এই সহিংসতার সবচেয়ে বড় শিকার। তাই সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদের পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মানবাধিকার ও সহনশীলতার শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সোসাইটির সেক্রেটারি ডাক্তার মো মাসুদ আলী বলেন, "আমরা যদি মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখি—ধর্ম, বর্ণ বা মত দিয়ে নয়, তাহলেই প্রকৃত সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।"
সাম্প্রদায়িক সহিংসতা কমাতে ও সম্প্রীতি বাড়াতে বক্তাগণ সরকারের কাছে নিম্নলিখিত সুপারিশমালা পেশ করেনঃ
১.আইনের শাসন নিশ্চিত করা, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, ২.সংখ্যালঘু সুরক্ষা জোরদার করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, ৩.শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা কারিকুলামে সম্প্রীতি ও মানবিকতা অন্তর্ভুক্ত করা, গণমাধ্যমে ইতিবাচক প্রচারণা, ৪.গুজব ও উসকানি প্রতিরোধ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া তথ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধি, ৫. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধি, মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা, ৬.সামাজিক সংলাপ ও অংশগ্রহণ, ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে সংলাপ আয়োজন, কমিউনিটি পর্যায়ে সম্প্রীতি ফোরাম গঠন, ৭.নারী ও শিশু সুরক্ষা: সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ সহায়তা। আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন।