প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৮:১৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বরিশালে বামপন্থী শ্রমিক আন্দোলনে বিনিয়োগে ভাটা 


আয়কর বার্তা রিপোর্ট: 

গ্যাস ও বিদ্যুত সংকটের পাশাপাশি শ্রমিক আন্দোলন বরিশালে শিল্পায়নের পথে নতুন করে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্প উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, সামান্য বিরোধ বা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কারখানায় তালা দিয়ে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, ফলে বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
যোগাযোগ ও অবকাঠামো ব্যবস্থার উন্নয়ন হলেও বরিশালে দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট রয়েছে। উদ্যোক্তাদের মতে, বর্তমানে শ্রমিক অসন্তোষ ও আন্দোলনের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
শিল্প মালিকদের অভিযোগ, কিছু শ্রমিক সংগঠনের নেতারা সামান্য বিরোধ বা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কারখানায় তালা লাগিয়ে উৎপাদন বন্ধ করে দিচ্ছেন। এতে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত জিম্মি অবস্থায় পড়ছে। স্থানীয় কয়েকজন শিল্প মালিক বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মী মনীষা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তবে এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বরিশালে প্রতিষ্ঠিত উল্লেখযোগ্য শিল্প কারখানার মধ্যে বেঙ্গল বিস্কুট, সোনারগাঁও টেক্সটাইল লিমিটেড, খানসন্স টেক্সটাইল, অলিম্পিক সিমেন্ট এবং অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যালস উল্লেখযোগ্য। উদ্যোক্তাদের দাবি, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বেঙ্গল বিস্কুট কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, সোনারগাঁও টেক্সটাইল বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে এবং অপসোনিন তাদের একটি কারখানা বরিশাল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেছে।
সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিল কর্তৃপক্ষের দাবি, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কয়েক হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশীয় সুতার চাহিদা হ্রাস এবং গ্যাস সংকটের কারণে উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে উৎপাদন করতে গিয়ে ব্যয় বেড়ে গেছে, যা প্রতিষ্ঠানটিকে আর্থিক সংকটে ফেলেছে।
এক শিল্প উদ্যোক্তা আয়কর বার্তাকে বলেন, “আমরা হাজার হাজার কোটি টাকা এখানে বিনিয়োগ করেছি, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল পাইনি। অযৌক্তিক দাবির কাছে আর নতি স্বীকার করতে পারি না।”
বরিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মির্জা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “শ্রমিক আন্দোলনের কারণে নতুন শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তারা ভয় পাচ্ছেন। ফলে বিনিয়োগ বরিশালে না এসে অন্য এলাকায় চলে যাচ্ছে।”
বরিশাল জেলা সমিতির সভাপতি ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. এনায়েত করিম বলেন,  শ্রমিক অসহযোগিতার কারণে বাংলাদেশের বহু কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে বিশ্ব ব্যাংকসহ বহু দাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তিনি সরকারকে এ বিষয়ে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেন।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রুবেল বলেন, “এই ধরনের পরিস্থিতির কারণে জেলা শহরগুলোতে শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে না। সরকারের উচিত বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।”
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, শিল্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মনীষা চক্রবর্তীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়