প্রকাশিত : ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৩৫ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বৈদ্যুতিক শক দিয়ে যুবককে হত্যার অভিযোগ, কলগার্লসহ আটক ৩

বরিশাল ব্যুরো

৫ ডিসেম্বর ২০২৫

বরিশালে পাওনাদারের কাছ থেকে রাখা মোবাইল সেট আদায় করতে গভীর রাতে এক অফিসে ডেকে নিয়ে চার সন্তানের জনককে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দু'জন কলগার্লসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) গভীর রাতে বরিশাল নগরীর ভাটার খাল এলাকায় বান্দরোডের জেলা পরিষদ মার্কেটের তৃতীয় তলায় অনিবন্ধিত একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল অফিসে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবক বেল্লাল হোসেন রাজ (৩৪) বরিশাল কাউনিয়া থানাধীন শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম চরআইচা গ্রামের মো. আব্দুল হক রাজের ছেলে। দুই মাসের ছেলে সন্তান ও তিন কন্যার জনক বেল্লাল পেশায় একজন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক ছিলেন।

আটকরা হলেন কলগার্ল ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানাধীন খালিশপুরের ১ নম্বর সড়কের রায়হান চৌধুরীর মেয়ে মায়া চৌধুরী (১৮), পিরোজপুরের স্বরুপকাঠি উপজেলার ইন্দেরহাট বরছাকাঠি গ্রামের মিজানুর রহমান খোকনের মেয়ে সাদিয়া আক্তার (২০) এবং সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের গিলাতলি এলাকার সিরাজ হাওলাদারের ছেলে অটোরিকশা চালক রানা হাওলাদার (২৮)।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) নিহতের স্ত্রী শাহনাজ বেগম জানান, বুধবার দুপুরে খাবার খেয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় তার স্বামী বেল্লাল। এরপর ভোর রাতে রানা নামের এক ব্যক্তি মেয়ের মোবাইল নম্বরে ফোন করে জানায় বেল্লাল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাসপাতালে রয়েছে। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশঘরে গিয়ে বেল্লালের মরদেহ খুঁজে পান তিনি। 

নিহতের বাবা আব্দুল হক রাজ জানান, সদর উপজেলার তালতলী এলাকার পিন্টু নামের এক যুবকের কাছে ১০ হাজার টাকা পাবে তার ছেলে রাজ। টাকা পরিশোধ না করায় পিন্টুর একটি মোবাইল সেট আটকে রাখে রাজ। মোবাইলটি রাজের কাছ থেকে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে দেয় একই এলাকার স্বপন নামের আরেক ব্যক্তি। এ নিয়ে পিন্টু, রাজ এবং স্বপনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি পিন্টু হুমকিও দিয়েছে রাজকে।

আব্দুল হক রাজের অভিযোগ, পিন্টুর মোবাইল এবং ১০ হাজার টাকা আদায় করে দেওয়ার কথা বলে বেল্লালকে বান্দ রোডের রিপন রানা তার কথিত পত্রিকা অফিসে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর রিপন এবং রানা নামের দু'জন রাত সোয়া ৪টার দিকে হাতে হাতে ধরে বেল্লালের মরদেহ তৃতীয় তলা থেকে নিচে নামায়। এর মধ্যে রিপন রানা ঘটনাস্থল থেকেই পালিয়ে যায় এবং রানা নামের ওই যুবক মরদেহ নিয়ে হাসপাতালে যান।

জেলা পরিষদ মার্কেটের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১১টার দিকে বেল্লাল হোসেন রাজ এবং রানা হাওলাদারসহ তিনজন ওই কথিত অনলাইন পোর্টাল অফিসে প্রবেশ করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে দুই কলগার্ল সেখানে প্রবেশ করে। রাত ৪টা ৭ মিনিটের দিকে দুই কলগার্ল মার্কেট ভবন থেকে নেমে যায়। এ সময় সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে তাদের টাকা ভাগবাঁটোয়ারা করতে দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ পর রাত ৪টা ১৩ মিনিটে রিপন রানা ও অটোরিকশা চালক রানা হাওলাদার একত্রে ধরে বেল্লাল রাজের মরদেহ নিচে নামান। 

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে জানা গেছে, রিপন রানা নামের ওই যুবক একসময় চরমোনাই ট্রলারঘাটে ট্রলার চালাত। এ কারণে তিনি ‘ট্রলার রিপন’ নামে পরিচিত। একপর্যায়ে একটি ফেসবুক পেজের সাংবাদিক পরিচয় দিতে শুরু করেন রিপন। বিভিন্ন ভূঁইফোর সাংবাদিক সংগঠনের সদস্য হন তিনি।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যে চারজন ছিল তাদের মধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আটকরা দাবি করেছে, রাতে তারা একসঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিল। তখন ভবনের পাশ ঘেঁষে যাওয়া হাই ভোল্টের বিদ্যুতের তার হাতে লাগলে বেল্লাল স্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়