প্রকাশিত : ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:১৫ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

৭০ লাখেই তুষ্ট লিটন

বিপিএল নিলামে সরাসরি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে চুক্তি করেননি লিটন দাস। তার নাম ছিল নিলামে। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে থাকা এই উইকেটকিপার-ব্যাটারের ভিত্তিমূল্য ছিল ৫০ লাখ টাকা। তবে একই ক্যাটাগরিতে থাকা নাঈম শেখ ১ কোটি ১০ লাখে বিক্রি হলেও কোটির ঘর ছুঁতে পারেননি লিটন। রংপুর রাইডার্স বেশ সস্তায় পেয়ে গেছে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ককে! ৭০ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রি হয়েছেন লিটন। তবে কত দামে বিক্রি হয়েছেন তা সঠিক জানতেন না বাংলাদেশের অধিনায়ক। নিলামের সময় তিনি জিমে ফিটনেস নিয়ে কাজ করছিলেন। গতকাল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

ম্যাচশেষে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন লিটন। বিপিএল নিলামে আপনাকে রংপুর রাইডার্স ৭০ লাখ টাকায় দলে নিয়েছে, এতটুকু প্রশ্ন শুনেই কিছুটা চমকে গেলেন তিনি। কৌতূহলী চোখে জানতে চাইলেনÑ ৭৫ লাখ না? ৭০ লাখ শোনার পর আবার তার জানতে চাওয়া- ‘৭০ না ৭৫?’ এবারও ৭০ শোনার পর মুখে চওড়া হাসি দিয়ে মজার ছলে তিনি বললেন, ‘৫ লাখ বাড়িয়ে দিন, সমস্যা নেই।’ বিপিএলে আবার ফিরেছে নিলাম। বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন লিটন।

তিনি বলেন, ‘নিলাম ভালো, তবে দেখিনি আমি। কারণ জিমে ব্যস্ত ছিলাম। আমার কাছে মনে হয়েছে, জিম করাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল ওই সময়ে। অবশ্যই, পরবর্তী সময়ে যদি আবার সুযোগটা হয়, দেখব।’ নিলামে নাঈম শেখ কোটি টাকায় বিক্রি হলেও লিটন তেমন দাম পাননি। তবে এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই তার। বরং ৭০ লাখেই খুশি লিটন।

তিনি বলেন, ‘আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি। যদি কখনও তিনি চান যে আমাকে বেশি টাকা দেবেন, তিনি এনে দেবেন। উনার মনে হয়েছে যে ৭০ লাখ যথেষ্ট, কাজেই যথেষ্টই। যেটা আছে, আমি সেটা নিয়েই খুশি।’

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে স্কোয়াড নিয়ে নিজের অসন্তুষ্টির কথাই জানিয়েছিলেন লিটন। তার চাওয়া ছিল শামীমকে। তবে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ প্রথম দুই ম্যাচের দলে তাকে রাখেননি। এমনকি দল নির্বাচন নিয়ে অধিনায়কের কোনো মতও নেননি। এ নিয়ে প্রথম ম্যাচের আগের দিন রীতিমতো উত্তপ্ত ছিল পরিস্থিতি।

লিটনের প্রেস কনফারেন্সের পর ভিডিওবার্তা দিয়েছিলেন গাজী আশরাফ। তবে সেসব ভুলে এখন সামনে তাকাচ্ছেন লিটন। তিনি বলেন, ‘দেখুন, হিট অফ দা মোমেন্টে অনেক কিছু হয়েছে। উভয় পক্ষ থেকেই আমাদের হয়েছে। তবে যে জিনিসটা হয়েছে, সেটা ভালো নয়। ক্রিকেটের জন্য ভালো নয়। পরবর্তী সময় থেকে এই জিনিসগুলো হবে না। এরপরে আমরা সুন্দর করে বসে কথা বলছি এবং এটার ভালো একটা সমাধান এসেছে।’

লিটন ও গাজী আশরাফের পারস্পরিক টানাপড়েনে সেই সময় কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হলেও দলে খেলোয়াড়দের ওপর তা কোনো প্রভাব ফেলেনি বলেও জানান লিটন। তিনি বলেন, ‘না, আমার মনে হয় দলের ভেতর এটার কোনো প্রভাব পড়েনি। নরমালি ছিল সবকিছু। যেহেতু আমরা পেশাদার ক্রিকেটার, মাঠে গেলে ক্রিকেটই খেলি, ওদিক থেকে আমাদের কোনো সমস্যা হয়নি।’ বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ড সিরিজই বাংলাদেশের শেষ আন্তর্জাতিক সিরিজ। ঘরের মাটিতে এই সিরিজটা তারা ২-১ ব্যবধানে জিতল। প্রথম ম্যাচ হারার পর পরের দুই ম্যাচ জয়ের মধ্য দিয়ে আরও একটি শিরোপা ধরা দিল তাদের হাতে।

লিটন বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে আমরা চাপে পড়ে গিয়েছিলাম। ওভারকাম করতে পারিনি। পরে টানা দুই ম্যাচ জিতে আমরা সিরিজটা জিততে পেরেছি। অনেক ইতিবাচক দিক এটা।’ বিশ্বকাপ দলে কারা থাকবেন, সে সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে লিটন বলেন, ‘দল অনেক আগের থেকেই প্রস্তুত ছিল। যখন এশিয়া কাপ আমরা খেলেছি তখন থেকেই। আপনি যদি দেখেন প্যাটার্নটাÑ এই কয়েকটা খেলোয়াড়ই খেলছে, তার মানে বোঝা যাচ্ছে যে দলটা আগে থেকে প্রস্তুত ছিল।’

তবে বিপিএলে কেউ যদি (বিশ্বকাপ দলের বাইরে থাকা তরুণ কেউ) অতিমানবীয় পারফরম্যান্স করেন তাকে বিশ্বকাপ দলে বিবেচনা করা হবে কিনাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘যেহেতু বিপিএল একটা বড় লিগ।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়