প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৫:১৫ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সালমান শাহ হত্যা মামলায় সামিরাসহ ১১ জনের সম্পদ জব্দের আবেদন

আয়কর বার্তা: চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যা মামলায় সাবেক স্ত্রী আসামি সামিরা হকসহ ১১ জনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দের আবেদন করেছেন বাদীপক্ষ। আজ মঙ্গলবার মামলার বাদী আলমগীর কুমকুমের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফারুক আহাম্মদ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আবেদন জমা দিয়েছেন।

‎মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটজুয়েল রানা শুনানি শেষে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন।

‎শুনানিতে আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেন, ‘মামলার আসামিরা ২৯বছর আদালতে অনুপস্থিত থেকে ন্যায় বিচার ব্যাহত করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষে এজাহারভূক্ত সকল আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জব্দের প্রার্থনা করছি।’

‎আদালতের আদেশ পেয়ে গত ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম এই মামলা দায়ের করেন।

‎১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান। ছেলের মৃত্যুর পর প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। কিন্তু পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে- এমন অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান তিনি।

‎তখন অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি জানায়, সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেন।

‎২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট বিচার বিভাগীয় তদন্তেও সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেছেন বলা হয়।

‎সালমান শাহের বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলাটি চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে বিরুদ্ধে নারাজিতে ১১ জনের নাম উল্লখ করে ফের তদন্ত চান। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয়। চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি একই প্রতিবেদন দেয় পিবিআই।

‎ওই প্রতিবেদনেও সন্তুষ্ট না হয়ে নীলা চৌধুরী নারাজি দিলে তা নামঞ্জুর করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন।

‎এরপর ওই আদেশের বিরুদ্ধে সালমান শাহর পরিবার মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করেন।

‎রিভিশনের শুনানি শেষে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক রিভিশন মঞ্জুর করেন। রায়ে আদালত সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিনের অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। এরপরই  রমনা মডেল থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ করেন।

‎ মামলায় এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ্কে হত্যা করেছে বলে মামলায় অভিযোগ করেন মোহাম্মদ আলমগীর।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়