প্রকাশিত : ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:০৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‎হাদিকে হত্যাচেষ্টা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন ‎ফয়সালের বাবা-মা

আদালত প্রতিবেদক

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টাকারী ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির (৭০) ও মা মোসা. হাসি বেগম (৬০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্যদিকে, ফয়সাল করিমকে পালাতে মাইক্রোবাস ভাড়া দিয়ে সহায়তাকারী রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মুফতি নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জলের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

‎বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

‎মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর ফয়সাল আহমেদ আসামি ফয়সালের বাবা-মা স্বীকারোক্তি গ্রহণের এবং মাইক্রোবাস সরবরাহকারী মুফতি নুরুজ্জামানের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

‎ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে ৩ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

‎রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্থ করাসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টির লক্ষ্যে এবং প্রার্থীদের মনোবলকে দুর্বল করার অভিপ্রায়ে এ আসামি ও তার সহযোগী, সহায়তাকারী ও অর্থায়নকারী (প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে) অজ্ঞাতনামা আসামিদের পরামর্শে ও নির্দেশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটায়। ঘটনার পরপরই আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা গুলি করা আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান। বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি এবং সোর্সের তথ্য মোতাবেক গ্রেপ্তারকৃত আসামি নুরুজ্জামান ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। তাকে গাড়িযোগে পালিয়ে যেতে ভাড়ার গাড়ি দিয়ে সাহায্য করেন এবং ওই গাড়ির ড্রাইভারকে বিভিন্ন সময়ে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেন।

এ আসামিরা মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এটি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মামলার পরিকল্পনাকারী ও অন্যান্য জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারসহ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে পুলিশ হেফাজতে এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।

‎শুনানিকালে নুরুজ্জামান নোমানীকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনার পর মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে পালাতে মাইক্রোবাস দিয়ে সহায়তা করায় পথ সহজ করে দেন।’

‎রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

‎নুরুজ্জামান নোমানীর পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তাই তার কিছু বলার আছে কি না জানতে চান আদালত। তখন নুরুজ্জামান  বলেন, ‘অনলাইন, হোয়াটসঅ্যাপে ফয়সালের সঙ্গে আমার পরিচয়। আমার রেন্ট-এ-কার থেকে আগেও তিনি গাড়ি ভাড়া নিয়েছেন। গাড়ি ভাড়া করে তিনি সাটুরিয়া যেতেন এবং আলাদিন পার্কে আসতেন। ৯ মাস আগে তার সাথে আমার পরিচয়। কিন্তু গত তিনমাস আমাদের কোনো সাক্ষাৎ নেই।’

‎তিনি বলেন,‘আমি গাড়ির ব্যবসা করি। তিনি আমার কাছ থেকে গাড়ি ভাড়া নেন। গত বুধবারও আমার কাছ থেকে গাড়ি ভাড়া নিয়ে সাটুরিয়িা যান। সেখান থেকে আবার আলাদিন পার্কে আসেন। শুক্রবার তিনি আমার কাছে গাড়ি ভাড়া চান। কিন্তু আমার সব গাড়ি ট্রিপে ছিল। আমি আমার পরিচিত সুমন ভাইকে ট্রিপটা দেই।’

‎এরপর বিচারক তার কাছে জানতে চান, ওই ড্রাইভারকে চিনেন? নুরুজ্জামান বলেন,‘হ্যাঁ’।

‎ তিনি কোথায় আছেন, বিচারক জানতে চাইলে নুরুজ্জামান বলেন,‘ডিবিতে আছেন। আমার সাথে তাকেও নিয়ে এসেছে।’

‎নুরুজ্জামান বলেন,‘শুক্রবার ফোন করে ফয়সাল বলেন, ‘‘ভাই আমি বিয়ে করেছি। আপনার ভাবিকে নিয়ে একটু ঝামেলা হচ্ছে। গাড়িটা মৎস্যভবন পাঠিয়ে দেন।’’ সুমন গাড়ি নিয়ে মৎস্যভবন যান। ফয়সাল আবার আবার ফোন দিয়ে গাড়ি বিএনপি বাজার (আগারগাঁও) পাঠিয়ে দিতে। আমি তখন ফয়সালকে বলি সুমন ভাইকে ফোন দিতে। পরে তারা যোগাযোগ করেন।’

‎তিনি বলেন,‘দুষ্টু লোকটার সঙ্গে আমার যখন পরিচয় তখন তার লম্বা চুল ছিল। এখন টিভিতে দেখি ছোট ছোট চুল।’

‎এরপর বিচারক বলেন, ‘আপনি রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা করেন। রিমান্ড মানে শাস্তি না। তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করেন। আপনার কিছু হবে না।’ পরে আদালত থেকে তার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ আসেন।

‎এর আগে মঙ্গলবার র‍্যাব-১০ ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ হাউজিংয়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ফয়সলের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম গ্রেপ্তার করা হয়।

‎হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পরিবারের সম্মতি নিয়ে গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলাটি করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।

‎মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ফয়সালের সহযোগী কবিরের ৭ দিন, সোমবার ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু এবং ঘনিষ্ঠ বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এর আগে রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সন্দেহজনকভাবে গ্রেপ্তার মোটরসাইকেল মালিক মো. আব্দুল হান্নানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

‎জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুলিটি লাগে হাদির মাথায়।

গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা ‘অত্যন্ত আশঙ্কাজনক’ বলে জানায় চিকিৎসকরা। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়