প্রকাশিত : ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:২৭ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অটিজম নির্ভর করে যেসব ফ্যাক্টরের ওপর

অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার এমন একটি নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল অবস্থা, যার পেছনে রয়েছে একাধিক জৈবিক ও পরিবেশগত ফ্যাক্টর। কোনো একক কারণকে অটিজমের জন্য দায়ী করা যায় না। এক্ষেত্রে জেনেটিক প্রবণতা, গর্ভাবস্থার জটিলতা, জন্মের সময়ের সমস্যা এবং শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশগত বৈশিষ্ট্যের সম্মিলনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, পরিবারে অটিজম থাকলে সন্তানের ঝুঁকি বাড়ে। কিছু জেনেটিক কন্ডিশন, যেমন- ডাউন সিনড্রোম বা ফ্র্যাজাইল এক্স সিনড্রোমে অটিজমের হার তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এছাড়া অকালে জন্ম, অতিরিক্ত কম ওজন, জন্মের সময় শ্বাসকষ্ট বা অক্সিজেনের ঘাটতির বিষয়ও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে স্ক্রিনের ব্যবহার, ভাষা শেখার সময় শিশুর প্রতি কম মনোযোগ বা মাথায় ছোটখাটো আঘাত অটিজমের সরাসরি কারণ বলা ভুল। এগুলো শিশুর শেখা ও আচরণগত উন্নতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

অটিজম কোনো একদিনে বোঝা বা চিকিৎসা করার বিষয় নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ এবং ধাপে ধাপে পরিকল্পিত কাজের মাধ্যমে উন্নতি অর্জনের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, অনেক শিশু নিয়মিত থেরাপি, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং পরিবারের সহযোগিতা পেলে ধীরে ধীরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করে। ছয় বছর বয়সী এক শিশুর ক্ষেত্রে প্রায় চৌদ্দ মাসের নিরবচ্ছিন্ন কাজের ফলে তার ভাষা, আচরণ ও সামাজিক যোগাযোগে দৃশ্যমান উন্নতি আসে। অনেক অভিভাবকের কাছে এ সময়টি দীর্ঘ মনে হলেও বাস্তবে অটিজম বিষয়ে এক বছরের সময় মোটেও বেশি নয়। কারণ প্রাকৃতিক উন্নতির গতি ধীর এবং শিশুভেদে ভিন্ন। বহু পরিবার বছরের পর বছর ভুল পথে ঘোরাফেরা করে পুরোপুরি ফলাফল পান না। সঠিক পদ্ধতি নির্বাচন করলে তুলনামূলক কম সময়েই উন্নতি ধরা দেয়। অটিজম ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গভীর ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ। প্রতিটি শিশু আলাদা। তাই একই নিয়মে সবার চিকিৎসা বা সহায়তা কার্যকর হয় না। শিশুর আচরণ, অনুভূতি, ভাষা, সেন্সরি রেসপন্স, শেখার অভ্যাস এবং পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা- সবকিছু মিলিয়ে যদি সঠিকভাবে নিরীক্ষণ করা যায়, তবে সঠিক পরিকল্পনা তৈরি করা সহজ হয় এবং শিশুর উন্নতির পথ আরও সুস্পষ্ট হয়। এ দক্ষতা অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও দীর্ঘদিনের অনুশীলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তৈরি হয়।

বর্তমানে অটিজমে বৈজ্ঞানিকভাবে কার্যকর যে পদ্ধতিগুলো স্বীকৃত, তার মধ্যে রয়েছে বিহেভিয়ারাল থেরাপি, স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, সেন্সরি ইন্টিগ্রেশন, বিশেষায়িত শিক্ষার মডেল এবং প্যারেন্ট ট্রেনিং। এগুলো শিশুর সার্বিক দক্ষতার উন্নতিতে সবচেয়ে প্রমাণিত ও ফলপ্রসূ। চিকিৎসায় বা থেরাপিতে কোনো শর্টকাট নেই। বাস্তবসম্মত লক্ষ্য এবং দলগত (শিশু-অভিভাবক-থেরাপিস্ট) কাজই উন্নতির চাবিকাঠি। চিকিৎসক যখন একটি শিশুকে নিয়ে কাজ করেন, তখন কেবল তার আচরণ নয়, তার অনুভূতি, শক্তি, দুর্বলতা, পরিবেশ, পরিবার এবং শেখার ধরণ সবকিছুকে বিবেচনায় রাখেন। এ সমন্বিত সহায়তা পদ্ধতিই শিশুর উন্নতি দীর্ঘস্থায়ী ও স্থিতিশীল করে। চিকিৎসা নিতে এসে অনেকেই বুঝতে পারেন যে নিরীক্ষণ, পরিকল্পনা এবং পর্যবেক্ষণের সমন্বয়ে গঠিত পদ্ধতিই আসলে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়