ন্যাটো মিত্র জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শুক্রবার পেন্টাগন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আজ শনিবার রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এমনই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথের নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে শেষ হতে হবে প্রত্যাহার প্রক্রিয়া।
এছাড়া পেন্টাগন মুখপাত্র সিন পারনেল জানিয়েছেন, বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ৩৬ হাজার ৪০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি।
এর ফলে জার্মানিতে বর্তমানে থাকা ৩৫,০০০ মার্কিন সেনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একটি ব্রিগেড কমব্যাট টিম সরিয়ে নেওয়া হবে। বাইডেন প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী যে লং-রেঞ্জ ফায়ার্স ব্যাটালিয়ন মোতায়েনের কথা ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে।
সম্প্রতি ইরান যুদ্ধ নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মারৎজ ট্রাম্পের অবস্থানের সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে বিব্রত করছে ইরান। ইরান যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটনের কোনো সঠিক এক্সিট স্ট্র্যাটেজি নেই।’
আর এতেই চটে যান ট্রাম্প। এর জবাবে ট্রাম্প প্রশাসন জার্মানির এই মন্তব্যকে অনুপযুক্ত বলে আখ্যা দেয় এবং পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই বক্তব্যের জের ধরেই ওয়াশিংটন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন কেবল জার্মানি নয়, বরং ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছে। স্প্যানিশ সরকার তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ইরান যুদ্ধে ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকার করায় ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে ইউরোপীয় দেশগুলো নৌবাহিনী না পাঠানোয় ওয়াশিংটন তাদের ওপর বিরক্ত।
জার্মান সামরিক কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, তারা ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সহায়তা করেছে। এমনকি দেশটি তাদের ২০২৭ সালের বাজেটে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞ ইমরান বায়োমি মনে করেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপের দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রকে অবিশ্বস্ত মনে করতে পারে, যা দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করতে বাধ্য করবে।