ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জোর দিয়ে বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তিতে থাকা পারস্পরিক সহায়তা ধারা একেবারেই স্পষ্ট- এটি ‘শুধু কথার কথা নয়’, বাস্তবেও কার্যকর। তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সাইপ্রাসে একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ দ্রুত সামরিক সহায়তা পাঠায়; যা এই ধারার বাস্তব প্রয়োগের উদাহরণ।
ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘অনুচ্ছেদ ৪২-এর ৭ নম্বর ধারা আমাদের জন্য পরিষ্কার। এতে কোনো ব্যর্থতা বা ব্যাখ্যার সুযোগ নেই।’ বর্তমানে গ্রিস সফরে থাকা এই ফরাসি নেতা আরও দাবি করেন, এই ধারা ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর চেয়েও ‘শক্তিশালী’। এর আগে ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইউরোপীয় নেতারা জানিয়েছেন, এই তুলনামূলক কম ব্যবহৃত ধারাটি বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিয়ারিয়াকোস মিৎসোতাকিসও ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, সাইপ্রাসে যুদ্ধবিমান ও নৌ-সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য এক ধরনের ‘গেমচেঞ্জার’।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা শুরুর পর সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ফ্রান্স, গ্রিস, স্পেন, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও পর্তুগাল দ্রুত সাইপ্রাসে সহায়তা পাঠায়।
এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ন্যাটোর সমর্থন না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রান্স আটলান্টিক জোটের সমালোচনা বাড়িয়েছেন। এতে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান সম্পর্কেও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
অফিস ছাড়ার আগে তৃতীয়বারের মতো গ্রিস সফরে গিয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, ফ্রান্স-গ্রিসের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য দেশগুলোর জন্য একটি আদর্শ হতে পারে। শনিবার দুই দেশের মধ্যে নয়টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, পারমাণবিক প্রযুক্তি এবং অন্যান্য খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি, তুরস্কের সম্ভাব্য হামলার মুখে গ্রিসের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন ম্যাক্রোঁ।