ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে গতকালের নিলামে মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতার নাইট রাইডার্স নিয়েছে ৯ কোটি ২০ রাখ রুপিতে। এর আগে আইপিএলের মিনি নিলামে আবার অর্থের ঝড় তুলল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। গতকাল মঙ্গলবার অজি অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনকে ২৫ কোটি ২০ লাখ রুপিতে আকাশছোঁয়া দামে কিনে নিল নাইট বাহিনী, যা আইপিএল নিলামের ইতিহাসে কোনো বিদেশি ক্রিকেটারের জন্য এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম! এই অবিশ্বাস্য বিডের মাধ্যমে কেকেআর মাত্র কিছু দিন আগে মিচেল স্টার্ককে ২৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় কেনার মাধ্যমে নিজেদের গড়া রেকর্ড নিজেরাই ভেঙে দিল।
আইপিএল নিলামে বরাবরই দামি তারকাদের পেছনে ছোটার অভ্যাস বজায় রাখল শাহরুখ খানের কলকাতা। গ্রিনকে দলে নিতে রাজস্থান রয়্যালস ও চেন্নাই সুপার কিংসের মতো হেভিওয়েট ফ্র্যাঞ্চাইজিকে টপকে বাজিমাত করল কেকেআর।
এই ছোট নিলামে ক্যামেরন গ্রিন ছিলেন সবচেয়ে কাক্সিক্ষত অলরাউন্ডার। আন্দ্রে রাসেলকে ছেড়ে দেওয়া কেকেআর এবং স্যাম কারেনকে ছেড়ে দেওয়া চেন্নাইÑ উভয় দলেরই একজন নির্ভরযোগ্য পেস-অলরাউন্ডার প্রয়োজন ছিল। ফলে গ্রিনকে নিয়ে নিলামের টেবিলে যে ধুন্ধুমার লড়াই হবে, তার ইঙ্গিত আগে থেকেই ছিল। নিলামে গ্রিনের নাম উঠতেই প্রথমে বিড শুরু করে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। তবে দুই কোটি ৬০ লাখ টাকার পরই তারা সরে যায়। এরপর লড়াই শুরু হয় কেকেআর ও রাজস্থান রয়্যালসের মধ্যে। দর কষাকষিতে দাম চড়চড় করে বাড়তে থাকলেও ১৩ কোটি ২০ লাখ টাকায় রাজস্থান রয়্যালস থেমে যায়।
এরপর নিলামের মঞ্চে প্রবেশ করে মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস। বাকি লড়াইটা চলতে থাকে কলকাতা ও চেন্নাইয়ের মধ্যে। ২০২৩ সালের নিলামে গ্রিনকে ১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকায় কিনেছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। এবার সেই অংক সহজেই পেরিয়ে যায়। ২০ কোটি পেরোনোর পরই স্পষ্ট হয়ে যায়, গ্রিন পেতে চলেছেন এক বিশাল অর্থরাশি।
অবশেষে কেকেআর যখন ২৫ কোটি ২০ লাখ টাকার চূড়ান্ত বিডটি হাঁকে, তখন চেন্নাই সুপার কিংস থেমে যেতে বাধ্য হয়। ফলে ইতিহাসের সবচেয়ে দামি বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ক্যামেরন গ্রিনকে নিজেদের করে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) ডেথ বোলিংয়ের দুর্বলতা কাটাতে এবার ফ্র্যাঞ্চাইজিটি নিলামে দেখাল ঐতিহাসিক চমক। প্রত্যাশামতোই ফাস্ট বোলিং বিভাগে বিনিয়োগ করে নিলামে শ্রীলংকার গতি তারকা মাথিশা পাথিরানাকে ১৮ কোটি রুপির বিশাল অংকে কিনে নিল শাহরুখ খানের দল।
আইপিএলের নিলামের ইতিহাসে কোনো শ্রীলংকান ক্রিকেটারের জন্য এটাই সর্বকালের সর্বোচ্চ দর। এর মধ্য দিয়ে পাথিরানা নিজ দেশের ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার পূর্বের রেকর্ড ভেঙে দিলেন।
গত মৌসুমে কেকেআরের ফাস্ট বোলিং, বিশেষ করে শেষ ওভারগুলোতে ভালো ফিনিশার বোলারের অভাব প্রকট ছিল। তাই আসন্ন আইপিএলের নিলামে একটি বিশ্বমানের ফাস্ট বোলিং বিকল্পের পেছনে কেকেআর ছুটবে বলে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করেছিলেন। মাথিশা পাথিরানাকে সেই লক্ষ্য পূরণের আদর্শ বিকল্প হিসেবে ধরা হচ্ছিল।নিলামের টেবিলে পাথিরানাকে দলে নিতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে ওঠে কলকাতা ও লখনউ সুপার জায়ান্টসের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত কড়া দর কষাকষির পর লখনউকে পেছনে ফেলে রেকর্ড ১৮ কোটি টাকার বিনিময়ে এই শ্রীলংকান গতিময় পেসারকে নিজেদের করে নেয় নাইট রাইডার্স।
কেকেআরের ম্যানেজমেন্ট আশা করছে, ডেথ ওভারে তার বিশেষ অ্যাকশন ও নিখুঁত ইয়র্কারের ক্ষমতা কলকাতাকে শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, নিলামে দামের ক্ষেত্রে আর্থিক শৃঙ্খলা ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে দাম যেন না ওঠে সেটিও এই নিয়মের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে চায় আইপিএল কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোয় দেখা গেছে, বিদেশি ফাস্ট বোলার ও অলরাউন্ডারদের নজরকাড়া দামে কেনা হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক সূচির ব্যস্ততার কারণে তাদের আইপিএলে পুরো সময়ের জন্য পাওয়া যায় না, যা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি বাজেট, টেকসই তহবিল ও স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক। নিয়মটি শুধু বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য।