আয়কর বার্তা রিপোর্ট: জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়াদের ‘ইনডেমনিটি’ তথা আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা দিতে সংসদে বিল পাস করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ছাড়া গণঅভ্যুত্থান চলাকালে পুলিশের পোশাক পরে যেসব সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে, তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন ও জয়নুল আবদিন ফারুকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাইযোদ্ধাদের ইনডেমনিটি দেওয়ার বিষয়ে ‘‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এই অঙ্গীকারের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘‘জুলাইযোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ’’ জারি করা হয়েছিল। বর্তমানে ১৩৩টি অধ্যাদেশের সঙ্গে এটিও মহান জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে।এসব অধ্যাদেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আগামী ২০ তারিখ কমিটিতে এসব নিয়ে আলোচনা হবে। সর্বসম্মতিক্রমে ‘‘জুলাইযোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ’’টি সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করে পাস করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আওয়ামী চক্রান্তকারী গোষ্ঠী’র বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যারা হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যা চালিয়েছে, জনতার প্রতিরোধের মুখে তাদের কেউ কেউ হয়তো প্রাণ হারিয়েছে। কারণ, ওটা ছিল একটি রণক্ষেত্র।সেখানে জুলাইযোদ্ধাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সারাদেশের মানুষ একমত।’
পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পুলিশের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের স্পেসিফিক মামলা হয়েছে। কিছু মামলা আইসিটি আইনে এবং কিছু সাধারণ আইনের অধীনে আদালতে রয়েছে। এগুলোর তদন্ত ও চার্জশিট প্রদানের কাজ চলছে।ইতোমধ্যে বেশ কিছু মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছে এবং তা টেলিভিশনে লাইভ সম্প্রচারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।’আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগে উল্লেখ করে সুষ্ঠু বিচারকাজের পরিবেশ তৈরিতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে যারা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে-তারা পুলিশের পোশাক পরুক অথবা যুবলীগ-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হোক, যে বাহিনীর পোশাকই পরুক না কেন, তারা সবাই অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। যদি কারও বিরুদ্ধে মামলা না হয়ে থাকে, তবে আপনারা দায়ের করবেন। প্রতিটি মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং বিচার বিভাগ যথাযথভাবে এর বিচার করবে।’