হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্প্রতি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর নড়েচেড়ে বসেছে বেসামরিক বিমান চলালাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। অগ্নিঝুঁকি মোকাবিলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বেবিচকের দুটি বিভাগ থেকে নোটিশ জারি করা হয়েছে। নোটিশে দেশের সব বিমানবন্দরে অগ্নিঝুঁকি রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গত ১৫ ও ১৯ নভেম্বর জারিকৃত পৃথক চিঠিতে ১৫টি নির্দেশনা রয়েছে।
প্রথম চিঠি জারি করে বেবিচক। প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে- দেশের প্রতিটি বিমানবন্দর, সেগুলোর আবাসিক এলাকা এবং সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোয় অবিলম্বে অগ্নিনিরাপত্তা পরিদর্শন ও পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে এবং সাত কর্মদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিতে হবে। অন্য চিঠিটি জারি করা হয় সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে।
বেবিচকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে- গ্যাস সংযোগ, বৈদ্যুতিক লাইন, ক্যাবল, সার্কিট ব্রেকার, সুইচ, সকেট, মিটার এবং অন্য স্থাপনাগুলো নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে হবে। বিশেষ করে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে তিতাস গ্যাস পিএলসি প্রদত্ত নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ইজারা গ্রহীতা নিজ দায়িত্বে নিয়মিত পরিদর্শন করবেন এবং ফল প্রতিবেদন আকারে জমা দেবেন।
বৈদ্যুতিক লাইন এবং সংযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, অনুমোদিত লোডের বাইরে অতিরিক্ত সংযোগ ব্যবহার করা যাবে না। যদি কোনো স্থাপনা ঝুঁঁকিপূর্ণ থাকে বা নিরাপত্তা মান পূরণ না করে, তবে জরিমানা, ইজারা বাতিল এবং প্রয়োাজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি বিমানবন্দরে ২৪ ঘণ্টা অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা সচল রাখতে হবে। নির্দেশনায় অগ্নি শনাক্তকরণ ডিভাইস, স্প্রিংকলার, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি, ইমার্জেন্সি এক্সিট এবং ফায়ার হোস ঠিকভাবে কার্যকর রাখতে বলা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেবিচকের এক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক ও পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম অনেক পুরনো। সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় ২৪ ঘণ্টা এসব বন্দর সচল রাখতে হয়। এ অবস্থায় সব বিমানবন্দর এবং সংশ্লিষ্ট আবাসিক এলাকা ও স্থাপনাগুলোতে ২৪ ঘণ্টা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রাংশও সচল রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলী স্থাপনাগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করবেন এবং বিমানবন্দর ব্যবস্থাপকরা ইজারা গ্রহীতাদের নির্দেশনা বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দেবেন।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে- ইজারা গ্রহীতাদের নিজ দায়িত্বে সব নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অনুমোদিত লোড অনুযায়ী বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবহার করা হবে, স্থাপনায় ময়লা বা অব্যবস্থাপনা রাখা যাবে না। নির্দেশনা অমান্য করলে জরিমানা বা ইজারা বাতিলসহ অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া সিএএবি জানিয়েছে, মাসিক ভিত্তিতে নিয়মিত অডিট এবং নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ চালানো হবে, যাতে যে কোনো অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এই নির্দেশনা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৩, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স আইন ২০০৩ এবং তিতাস গ্যাস সংযোগের বিধিমালা ২০১০-এর সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ। সিএএবি জানিয়েছে, দেশের বিমানবন্দরগুলোয় যাত্রী, কর্মী এবং স্থাপনার নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর্যালোচনা করে দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৮ অক্টোবরের অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট চিহ্নিত করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে কয়েক হাজার কোটি টাকার পণ্য পুড়ে গেছে।