অনলাইন ডেস্ক
১৮ মে ২০২৬
নবজাতকরা জীবনের প্রথম কয়েক মাসে নানা ধরনের অসুস্থতায় ভোগে। এর মধ্যে শ্বাসকষ্ট অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। এটি শিশুর জন্য একটি বিশেষ ঝুঁকি তৈরি করে এবং সময়মতো শনাক্ত করতে না পারলে শ্বাসকষ্ট থেকে জীবন-ঝুঁকিপূর্ণ জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। নবজাতকের শ্বাসকষ্টের পেছনে মূল কারণগুলো হলোÑ নিউমোনিয়া, অর্থাৎ ফুসফুসে সংক্রমণ, সময়ের আগে জন্ম নেওয়া শিশুর অপরিণত ফুসফুস এবং বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ। এছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে জন্মগত শ্বাসনালি সমস্যা, শ্বাসকষ্টজনিত অন্যান্য রোগ বা ফুসফুসের স্বাভাবিকভাবে অপরিণত থাকা শিশুর জন্যও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ১০০ নবজাতকের মধ্যে প্রায় ৭ জন শিশু শ্বাসকষ্টে ভুগে থাকে। এই তথ্য থেকে স্পষ্ট, নবজাতকের শ্বাসকষ্টকে অবহেলা করা উচিত নয় এবং এর লক্ষণগুলো চিহ্নিত করতে পারলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব, যা শিশুর জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নবজাতকের শ্বাসকষ্টের লক্ষণগুলো সচেতনভাবে পর্যবেক্ষণ করলে সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব। সাধারণভাবে দেখা যায়, যদি নবজাতক প্রতি মিনিটে ৬০ বা তার বেশি বার শ্বাস নেয়, তা শ্বাসকষ্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। এছাড়াও শ্বাস নেওয়ার সময় যদি শিশুর বুকের খাচা ডেবে যায় বা শ্বাস নেওয়ার সময় বুক গভীরভাবে ঢলে ওঠে, তা এক ধরনের শ্বাসকষ্টের চিহ্ন। অন্যদিকে, মুখ বা ঠোঁট নীলাভ হয়ে যাওয়া বা শ্বাস নেওয়ার সময় গোঙানির মতো অস্বাভাবিক আওয়াজ পাওয়া শ্বাসকষ্টের আরও স্পষ্ট লক্ষণ। শ্বাস নেওয়ার সময় নবজাতকের মাথা নড়ানো বা নাক ফুলে যাওয়া, কখনও কখনও তীব্র শ্বাসকষ্ট হলে শিশুটি হঠাৎ শ্বাস বন্ধ করে ফেলাÑ এসব লক্ষণ সবই শিশুর শ্বাসকষ্টের পরিচায়ক এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের প্রয়োজন নির্দেশ করে।
শিশুর শ্বাসকষ্ট একটি জীবন-ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা। তাই এই ধরনের লক্ষণ দেখা মাত্রই বিলম্ব না করে শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশু নবজাতক আইসিইউতে ভর্তি হতে পারে, যেখানে প্রয়োজন হলে অক্সিজেন এবং প্রাসঙ্গিক এন্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। অনেক সময় শিশুর শ্বাস স্বাভাবিক রাখতে জীবন রক্ষাকারী কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র, যেমনÑ সিপেপ বা ভেন্টিলেটর ব্যবহার করা হয়, যা শিশুর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নবজাতকের শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি কমাতে এবং শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা হ্রাস করতে প্রথম লক্ষণ দেখামাত্র স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকর ব্যবস্থা।
মা-বাবার জন্য এটি জানা গুরুত্বপূর্ণ যে, নবজাতকের প্রতি যত্নবান হওয়া মানেই তার সুস্থ ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা। নতুন জন্ম নেওয়া শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষায় বাবা-মা বা অভিভাবককে সতর্ক থাকা এবং শ্বাসকষ্টের কোনো লক্ষণ দেখামাত্র দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া অত্যাবশ্যক। এতে শিশুর প্রাণ রক্ষা হয় এবং গুরুতর জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। তাই নবজাতকের শ্বাসকষ্টকে হালকা হিসেবে দেখা ঠিক নয়, সময়মতো সচেতনতা ও চিকিৎসা গ্রহণ শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করার অন্যতম পদক্ষেপ। শ্বাসকষ্টের প্রতি দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া নবজাতকের জীবনের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অপরিহার্য।