অনলাইন ডেক্স:
শীতকাল মানেই এক অন্যরকম অনুভূতি। তবে এর মাঝেই অনেকের জীবনে নেমে আসে অস্বস্তি। শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক হয়ে ওঠে রুক্ষ, প্রাণহীন ও খসখসে। বিশেষ করে ঠোঁট, হাত-পা ফাটার সমস্যা বেশি দেখা দেয়। সারাক্ষণ জ্বালা, চুলকানি কিংবা ব্যথায় একেবারেই স্বস্তি থাকে না। কিন্তু এ জন্য মন খারাপ করার কারণ নেই। ত্বকের সঠিক যত্ন নিলে খুব সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
শীতের সময় হাত-পা ফাটার অন্যতম প্রধান কারণ, ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতা। ঠান্ডা বাতাস, কম আর্দ্রতা এবং ত্বকের প্রতি অবহেলা- এ তিনটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করে ত্বককে রুক্ষ করে তোলে। অনেক সময় সঠিক পরিচর্যার অভাবে এই রুক্ষতা বাড়তে বাড়তে ত্বক ফেটে যায়। তাই শীতের শুরু থেকেই নিয়মিত ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। গোসলের পর ও হাত-পা ধুয়েই ময়েশ্চারাইজার লাগালে ত্বক আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হাত-পা ফাটার সমস্যা এড়ানো যায়।
অনেকে মনে করেন, শীতকালে রোদের ক্ষতি কম, কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি মোটেও তা নয়। শীতের রোদও ত্বকের ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে বাইরে দীর্ঘ সময় থাকলে। তাই বাইরে বেরোনোর আগে অবশ্যই হাত-পা ও খোলা জায়গায় সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করা উচিত। এটি ত্বক রুক্ষ হওয়া থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি বয়সের ছাপ পড়াও কমায়।
শীতকালে শরীরের কিছু অংশ তুলনামূলকভাবে বেশি রুক্ষ হয়ে ওঠে। যেমন- হাঁটু, গোঁড়ালি ও কনুই। এ জায়গাগুলোয় নিয়মিত যত্ন না নিলে দ্রুত ফাটল ধরতে পারে। এসব ক্ষেত্রে গ্লিসারিন খুব কার্যকর। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এ জায়গাগুলোয় গ্লিসারিন লাগালে ত্বক নরম থাকে। যদি রুক্ষতা বেশি হয়, তবে সপ্তাহে একবার লেবু ও মধু মিশিয়ে হালকা মেসেজ করা যেতে পারে। এতে মৃত কোষ দূর হবে এবং ত্বক ফিরে পাবে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা। বাইরে থেকে ফিরে কুসুম গরম পানিতে সামান্য সোডা মিশিয়ে কিছুক্ষণ পা ভিজিয়ে রাখাও বেশ উপকারী। এরপর চিনি, লবণ ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে পায়ের তলায় আলতো করে মেসেজ করলে মৃত চামড়া উঠে যায়। খুব বেশি ফাটা না থাকলে ঝামা দিয়ে পায়ের তলা ঘষে নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি সম্ভব হলে মাসে অন্তত একবার মেনিকিউর ও পেডিকিউর করালে হাত-পায়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। যাদের শীতে পা ফাটার প্রবণতা বেশি, তারা এখন থেকেই নিয়মিত মোজা পরার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে শুষ্কতা অনেকটাই কমবে।
শীতকালে শুধু ত্বক নয়, নখও হয়ে ওঠে শুষ্ক ও দুর্বল। ফলে নখ ভেঙে যাওয়া বা ফেটে যেতে পারে। এ থেকে রক্ষা পেতে ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি নখকে পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি নখভাঙা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও গরম পানি ও অল্প শ্যাম্পু মিশিয়ে নখ ভিজিয়ে রাখা নখের যত্নে কার্যকর।
শীতকালে প্রায় সবারই ঠোঁট ফাটে। এর প্রধান কারণ ঠোঁটের ত্বক খুবই পাতলা এবং এতে তেলগ্রন্থি কম থাকে। ফলে শুষ্কতা দ্রুত দেখা দেয়। এ সময় নিয়মিত লিপবাম, চ্যাপস্টিক বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করা জরুরি। লিপস্টিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভিটামিন-ই বা সানস্ক্রিনযুক্ত লিপস্টিক বেছে নেওয়া ভালো। চেষ্টা করুন ঠোঁট যেন সব সময় আর্দ্র থাকে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই ঠোঁটে গ্লিসারিন লাগান।