প্রকাশিত : ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:২৩ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শীতের পোশাকের যত্নআত্তি

শীত শেষ হলেই ওভারকোট, সোয়েটার, শাল ও কার্ডিগানগুলো বছরের বেশির ভাগ সময় আলমারিতেই থাকে। কিন্তু এগুলো পরের শীতেও সুন্দর, টেকসই এবং ব্যবহারযোগ্য থাকবে কিনা তা নির্ভর করে আমরা কতটা যত্ন নিয়ে সেগুলো সংরক্ষণ করছি তার ওপর। শুধু আলমারিতে তুলে রাখলেই হয় না, শীতের পোশাকের সঠিক কেয়ারই আসল বিষয়।

শীতের পোশাক গুছানোর প্রথম ধাপ হচ্ছে পরিষ্কার করা। কয়েক মাস ব্যবহারের পর কাপড়ে ধুলো, ঘাম বা বডি অয়েলের দাগ জমে যায়। এগুলো না ধুয়ে অনেকদিন আলমারিতে বন্ধ করে রাখলে কাপড়ের রং নষ্ট হতে পারে, ফাইবার দুর্বল হয়ে যায় এবং বাজে গন্ধও তৈরি হয়। বিশেষ করে উল এবং ফ্লিসের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। উলের পোশাক গরম পানিতে ধুলে সংকুচিত হয়ে যায়, তাই ঠাণ্ডা পানি বা ড্রাই ক্লিন করাই নিরাপদ। ফ্লিস সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাই জেন্টল ওয়াশেই ধোয়া ভালো। কটন নিট ধোয়া সহজ হলেও ঝুলিয়ে শুকালে আকৃতি নষ্ট হতে পারে, তাই সমান জায়গায় রেখে শুকানোই সঠিক পদ্ধতি। আর লেদার বা রেক্সিন জ্যাকেট ভেজা কাপড় দিয়ে হালকা পরিষ্কার করলেও বেশি রোদে শুকানো উচিত নয়।

ধোয়া শেষ হলে কাপড় ভালোভাবে শুকানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য আর্দ্রতাও ফাংগাস বা বাজে গন্ধ তৈরি করতে পারে। অনেকেই পলিথিন বা প্লাস্টিক ব্যাগে শীতের কাপড় সংরক্ষণ করেন, কিন্তু এতে বাতাস চলাচল না থাকায় ছত্রাক ধরার ঝুঁকি বাড়ে। বরং কটন বা মসলিন ব্যাগ, কিংবা ভ্যাকুয়াম স্টোরেজ ব্যাগ ব্যবহার করা নিরাপদ। এতে কাপড় শ্বাস নিতে পারে এবং আর্দ্রতা কম থাকে। আলমারিতে নিমপাতা, ল্যাভেন্ডার স্যাশে বা ন্যাপথল বল রাখলে পোশাক পোকামাকড় থেকেও সুরক্ষিত থাকে।

শীতের পোশাক ভাঁজ ও সাজানোর ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মানলে সমস্যার ঝুঁকি কমে। উলের সোয়েটার কখনই হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখা উচিত নয়, এতে কাঁধের অংশ প্রসারিত হয়ে যায়। সোয়েটার ভাঁজ করে রাখা ভালো। অন্যদিকে কোট বা জ্যাকেট প্যাডেড হ্যাঙ্গারে ঝোলালে সেগুলোর আকার ঠিক থাকে। শাল ও স্কার্ফ আলাদা করে ভাঁজ করলে ঘর্ষণ কম হয় এবং ফাইবার ভালো থাকে।

শীতের পোশাক গোছানো শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ নয়, বরং নিজের ফ্যাশন সেন্স ঝালিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগও। কোন পোশাক ভালো অবস্থায় আছে, কোনটা দান বা রিসাইকেল করা যায়Ñ এই সময়েই ঠিক করে নেওয়া যায়। ক্লাসিক ডিজাইনের সোয়েটার বা জ্যাকেট যত্ন করে রাখলে বছর বছর নতুনের মতোই ব্যবহার করা যায়। চাইলে ট্রেন্ডি পোশাকগুলোর সঙ্গে মিক্স-ম্যাচ করে নতুন স্টাইলও তৈরি করা যাবে।

যাদের বাসায় শিশু আছে, তাদের শীতের পোশাক আলাদা করে লেবেল করে সংরক্ষণ করলে সুবিধা হয়। কারণ তারা খুব দ্রুত বড় হয়, তাই আগের বছরের অনেক পোশাক আর গায়ে লাগে না। এতে নতুন কেনাকাটার পরিকল্পনাও সহজ হয়।

সব মিলিয়ে, শীতের পোশাক যত্ন করে সংরক্ষণ করা মানে পোশাকের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং রুচির পরিচয়। ধোয়া, শুকানো, ভাঁজ করা এবং বুদ্ধিমানের মতো স্টোর করার অভ্যাস থাকলে পরের শীতেও কাপড় আগের মতোই উজ্জ্বল, সুন্দর ও পরার উপযোগী থাকবে। কারণ ফ্যাশন শুধু পরার সৌন্দর্য নয়- যত্নে রাখার মধ্যেও একটি আভিজাত্য আছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়