প্রকাশিত : ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৫৪ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গাজায় যুদ্ধবিরতির ২য় দফা অনিশ্চিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

 অবরুদ্ধ গাজায় দ্বিতীয় দফায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক নেতৃবৃন্দ এ নিয়ে সতর্ক করে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় দফা ‘সংকটপূর্ণ অবস্থায়’ রয়েছে। এদিকে ইসরায়েলি সেনাদের হামলায় মধ্য গাজার মাঘজি শরণার্থী শিবিরে ৭ জন নিহত হয়েছেন। খবর আল জাজিরার।

অন্যদিকে দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, শিগগিরই যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরু হবে। তিনি বলেন, এ মাসের শেষের দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক করবেন। তবে বৈঠকের স্থান তিনি উল্লেখ করেননি। তবে তার দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, সোমবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর নেতানিয়াহুকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এদিকে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, কীভাবে গাজায় হামাসের শাসনের ইতি টানা যায়, আমরা তা নিয়ে আলোচনা করেছি। প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে এবং খুব শিগগির দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার আশা করছি, যা আরও কঠিন হবে। অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় দফা নিয়ে সতর্কবার্তা মিসর, কাতার, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তির ভঙ্গুরতাও তুলে ধরে। যদিও এ যুদ্ধবিরতি প্রথমে লড়াই থামিয়েছিল, কিন্তু হামাসের নিরস্ত্রীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্যের কারণে এর দ্বিতীয় ধাপের বাস্তবায়ন থমকে গেছে।

নভেম্বরে জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েল তার অবস্থান থেকে সরে আসবে এবং গাজা পরিচালিত হবে ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি অন্তর্বর্তী শাসনকাঠামোর মাধ্যমে। এই পরিকল্পনায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের কথাও বলা হয়েছে। তবে সেই কাঠামোর রূপরেখা এখনও অনিশ্চিত। তাত্ত্বিকভাবে মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বোর্ডের প্রধান হিসেবে থাকার কথা থাকলেও অন্য সদস্যদের পরিচয় এখনও ঘোষণা করা হয়নি। উপরন্তু খবর আছে যে, আরব এবং মুসলিম দেশগুলো স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে দ্বিধা প্রকাশ করেছে। কারণ তাদের ভয়, এটি ফিলিস্তিন যোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে যেতে পারে।

কখন অস্ত্র পরিত্যাগ করবে জানাল হামাস

ফিলিস্তিন স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের গাজা অঞ্চলের প্রধান খলিল আল-হাইয়া গত শনিবার বলেছেন, ইসরায়েলি দখলদারত্ব শেষ হলে তাঁর গোষ্ঠী অস্ত্র ত্যাগ করবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন। খলিল আল-হাইয়া বলেন, ‘আমাদের অস্ত্র দখলদারত্ব ও আগ্রাসনের উপস্থিতির সঙ্গে জড়িত। দখলদারত্ব মিটে গেলেই এই অস্ত্র তুলে দেওয়া হবে রাষ্ট্রের হাতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অস্ত্রের বিষয়টি এখনও বিভিন্ন উপগোষ্ঠী ও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে এবং চুক্তিটি এখনও একেবারে প্রাথমিক স্তরে আছে।’

অক্টোবরের ১০ তারিখ থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির সময় গাজার মানবিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আল-হাইয়া অভিযোগ করে বলেন, ইসরায়েল ‘গাজায় প্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্রবেশে বাধা দিচ্ছে, যেন আমরা এখনও যুদ্ধের মধ্যে আছি।’

হামাসের এ নেতা বলেন, ‘গাজা ভূখণ্ডে যে পরিমাণ সাহায্য ঢুকছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই, আমরা মধ্যস্থতাকারীদের কাছে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছি।’ স্মরণ রাখা দরকার, হামাস এর আগে অস্ত্র ছাড়তে অস্বীকার করে একে একটি ‘রেডলাইন বা চূড়ান্ত সীমা’ বলে উল্লেখ করেছিল। অন্যদিকে ইসরায়েল গাজায় হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিন উপগোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণকেই গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের একটি প্রধান শর্ত বলে জোর দিচ্ছে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়