যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ৪৪ দিনে অন্তত ৪৯৭ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল। একের পর এক হামলা চালিয়েছে তারা। গাজার সরকারি গণমাধ্যম এমন দাবি করেছেন। ইসরায়েলি এসব হামলায় শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ অন্তত ৩৪২ জন নিহত হয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে ইসরায়েল স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করছে। এসব লঙ্ঘনের মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত পরিণতির জন্য ইসরায়েলই সম্পূর্ণ দায়ী।
অবশ্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর দাবি করেছে, গাজা ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামাসের এক যোদ্ধা ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালানোর পর ইসরায়েল পাল্টা অভিযান চালায়। এতে হামাসের পাঁচ শীর্ষ সদস্য নিহত হয়েছেন।
তবে হামাস দাবি করেছে, ইসরায়েল যাঁদের নিহত হওয়ার কথা বলছে, তাঁদের নাম প্রকাশ করতে হবে। সংগঠনটির রাজনৈতিক ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ সদস্য ইজ্জাত আল রিশেক বলেন, ‘ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি এড়াতে নানা অজুহাত সৃষ্টি করছে এবং গণবিধ্বংসী যুদ্ধের দিকে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে।’ তিনি মধ্যস্থতাকারী ও মার্কিন প্রশাসনকে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান জানান।
গাজা নগরী থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজজুম বলেন, যুদ্ধবিরতি শুধু নামেই আছে। কারণ, এর মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী গাজাজুড়ে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে মানুষের নিরাপত্তাবোধ পুরোপুরি ভেঙে গেছে।
গাজার উত্তরে বহু পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। কারণ, ইসরায়েলি সেনারা চুক্তি লঙ্ঘন করে গাজার গভীরে পর্যন্ত অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে অনুমোদিত হলেও জরুরি খাদ্য, ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রী গাজায় প্রবেশে ইসরায়েল এখনও কঠোর বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস প্রায় দুই দশক ধরে গাজা শাসন করে আসছে। দীর্ঘ ছয় দশকের শ্বাসরুদ্ধকর অবরোধ ও অব্যাহত ইসরায়েলি নিপীড়নের জবাব হিসেবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর তারা শত্রুরাষ্ট্রের ভেতরে ঢুকে একটি উৎসবে সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে ১১৩৯ জন নিহত হন। তারা ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়। ওই দিন থেকেই হামাসকে নির্মূলে গাজায় সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। দুই বছরের এই যুদ্ধে ৬৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ। এমনকি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পরিসংখ্যানমতে, ৭৫ শতাংশেরও বেশি নিহত ব্যক্তি হামাসের যোদ্ধা নয়। বরং নিরস্ত্র নারী ও নিরীহ শিশুর সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশের মতো।
গাজা যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। হেগভিত্তিক এই আদালতের এখতিয়ার ইসরায়েল অস্বীকার করে আসছে এবং গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে আসছে।