প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:১৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিয়ের মোহরানা পরিশোধের গুরুত্ব

অনলাইন ডেক্স :

বিয়ের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ দেনমোহর। বরের পক্ষ থেকে কনেকে বিয়ের সময় যে অর্থ বা সম্পদ প্রদান করা হয় বা পরে প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় তাকে মোহর বলা হয়। মোহর ছাড়া ইসলামে বিয়ে হওয়ার বিধান নেই। ইসলামের দৃষ্টিতে মোহর প্রদান করা স্বামীর কর্তব্য এবং এটি স্ত্রীর অধিকার।

মোহর পরিশোধ না করা কবিরা গুনাহ। বিয়ের প্রথমদিনেই পূর্ণ মোহর পরিশোধ করা উত্তম। পূর্ণ পরিশোধ করতে অক্ষম হলে কিছু হলেও পরিশোধ করতে হবে। স্ত্রী যদি কিছু মোহর পরিশোধ ছাড়া স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে অসম্মত হয়- এটি তার অধিকার হিসেবে পূরণ করা জরুরি।

পূর্ণ বা আংশিক মোহর পরিশোধ ছাড়াই যদি স্ত্রী স্বেচ্ছায় স্বামীর সংসার করে- এতেও কোনো অসুবিধা নেই। এ ক্ষেত্রে অপরিশোধিত পূর্ণ বা আংশিক মোহর স্বামীর ওপর স্ত্রীর ঋণ হিসেবে সাব্যস্ত হবে। এটি এমন ঋণ, যা পরিশোধ বা সন্তুষ্টচিত্তে ক্ষমা করা ছাড়া মাফ হয় না। এজন্য কেউ তার স্ত্রীর ওপর চাপ প্রয়োগ করে বা নারীত্বের সরলতাকে কাজে লাগিয়ে মোহরের টাকা মৌখিক মাফ নিলেও স্বতঃস্ফূর্ত মাফ না করার কারণে অপরিশোধের গুনাহ থেকে বাঁচতে পারবে না। ফতোয়ার কিতাবে আছে, ‘বিবাহের কারণে স্বামীর ওপর পূর্ণ মোহর পরিশোধ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে এমনভাবে যে, তা আদায় করা বা স্ত্রী কর্তৃক মাফ করা ছাড়া রহিত হয় না।’ -ফাতওয়ায়ে শামি : ৫/৩০২

প্রশ্ন হলো, অপরিশোধিত মোহর, যা স্বামীর ওপর ঋণ হিসেবে সাব্যস্ত, স্বামী যদি তা বিয়ের ১০ থেকে ২০ বছর বা আরও পরে পরিশোধ করে কিংবা স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর পরিশোধ করে অথবা স্বামী মারা যাওয়ার পর তার সম্পদ থেকে স্ত্রীর মোহর পরিশোধ করা হয়, তাহলে তা কীভাবে পরিশোধ করা হবে? অর্থাৎ এতে মুদ্রাস্ফীতির ধর্তব্য হবে কি না?

উদাহরণস্বরূপ- বিয়ে হয়েছে ২০০০ সালে এবং মোহর ধার্য ছিল দুই লাখ টাকা। আর তা পরিশোধ করা হচ্ছে ২০২৫ সালে। ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি হলো ১০ শতাংশ। তাহলে কি মুদ্রাস্ফীতির আলোকে দুই লাখের সঙ্গে ১০ শতাংশ যোগ করে দুই লাখ বিশ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে, নাকি বিবাহের সময় যা নির্ধারণ করা হয়েছে তা-ই আদায় করতে হবে?

ইসলামি স্কলাররা বলেন, মোহর পরিশোধে মুদ্রাস্ফীতির বিষয় ধর্তব্য নয়। এ ক্ষেত্রে ইসলামের নীতিমালার আলোকে দুটি বিষয় স্মরণীয়-

এক. অপরিশোধিত মোহর স্বামীর ওপর ঋণ হিসেবে সাব্যস্ত হয়ে যায় এবং এটি পরিশোধ করা স্বামীর ওপর এমন কর্তব্য, যেমন স্বামী যদি স্ত্রীর কাছ থেকে নগদ টাকা ঋণ নেয় আর পরে তা পরিশোধ করে। দুই. শরিয়ত মোতাবেক কোনো ধরনের ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতি বা মুদ্রাসংকোচ ধর্তব্য নয়। সর্বাবস্থায় ঋণ পরিশোধ করতে হবে পরিমাণ হিসেবে- মূল্য হিসাবে নয়। এ পর্যায়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে, মোহর পরিশোধের ক্ষেত্রেও মুদ্রাস্ফীতি গ্রহণযোগ্য নয়, যেমন মুদ্রাসংকোচ গ্রহণযোগ্য নয়। এ সংক্রান্ত এক ফতোয়ায় দারুল উলুম দেওবন্দ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘মোহরানা তলব করলে প্রচলিত টাকায় পরিশোধ করবে।’ এর উদ্দেশ্য হচ্ছে- বিবাহের সময় যে ধরনের টাকা প্রচলন আছে তার দ্বারা সেই পরিমাণ আদায় করতে হবে। সুতরাং যদি বিবাহের সময় ১০ হাজার টাকা মোহর নির্ধারণ হয়ে থাকে তাহলে স্বামীর ওপর ১০ হাজার টাকা আদায় করা আবশ্যক। চাই ১০-২০ বছর পরেই পরিশোধ করা হোক। পরিশোধের সময় স্বর্ণের মূল্যের তারতম্যের সঙ্গে মেলাতে হবে না। কারণ ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী ঋণ তার সাদৃশ্য দ্বারাই আদায় করতে হয়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়