ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ দুই দফায় শেষ হয়েছে। বর্তমানে এ নির্বাচন নিয়ে নানা বুথফেরত জরিপ সামনে আসছে। অধিকাংশ জরিপেই বিজেপিকে এগিয়ে রাখলেও মোট ২৯৪ আসনের মধ্যে ২২৬ আসনেরও বেশি পাওয়ার আশা করছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক ভিডিওবার্তায় এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ভিডিওবার্তায় মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘এত রোদের মধ্যেও, এত অত্যাচার সহ্য করেও আপনারা যেভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন, তাতে আমরা কৃতজ্ঞ। আমার কর্মীদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। ওঁরা প্রাণপণ লড়াই করেছে। অনেক অত্যাচার সহ্য করেছে। যারা বাংলাকে জব্দ করতে চেয়েছিলেন, তারা ভোটবাক্সে জব্দ হয়ে গিয়েছেন।’
বুথফেরত জরিপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের নিশ্চিন্ত করে বলতে চাই, যেটা টিভিতে দেখাচ্ছে, গতকাল বেলা ১টা ৮ মিনিটে বিজেপির অফিস থেকে সেই সার্কুলার জারি করা হয়েছে। টাকা দিয়ে বলা হয়েছে ওটা দেখাতে। জোর করে সংবাদমাধ্যমকে এটা করতে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা ২২৬ ক্রস করব। ২৩০-ও পেয়ে যেতে পারি। মানুষ যে ভাবে ভোট দিয়েছেন, আমার পুরো ভরসা রয়েছে।’
ভোটের সময় ভারতের কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং এখানকার পুলিশের বাহিনীর যৌথ অত্যাচার তৃণমূল কর্মীদের সহ্য করতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘বিজেপি তো ইডি, সিবিআই সকলকেই চমকায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী যে ব্যবহার গতকাল করেছে, নতুন যে সমস্ত পুলিশ নিযুক্ত হয়েছিলেন, যারা আমার হাতে ছিলেন না, তারা মেয়েদের মেরেছেন। বাচ্চাদের মেরেছেন। উদয়নারায়ণপুরে যে ভদ্রলোক ভোট দিতে গিয়ে মারা গেলেন, তার শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানানোর ভাষা আমার নেই। ওই পরিবারের পাশে আমরা থাকব।’
তৃণমূল কংগ্রেস প্রধানের অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মীরা একতরফাভাবে মার খেয়েছেন, কিন্তু তবু এলাকা ছেড়ে যাননি। অনেককে ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।
এ ক্ষেত্রে কয়েকটি কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করে মমতা বলেন, ‘আমাদের কর্মীদের মেরেছে, যাতে তারা এজেন্ট হিসাবে কাজ করতে না-পারেন। বিশেষ করে ভাটপাড়া, নোয়াপাড়া, জগদ্দল। আমাদের এখানে ভবানীপুরেও সারা রাত রেড (তল্লাশি অভিযান) হয়েছে। আমি দুদিন ঘুমাইনি।’
বুথফেরত জরিপকে বিজেপির চক্রান্ত বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিজেপি এত করেও মানুষের অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করতে পারল না। তাই সংবাদমাধ্যমকে দিয়ে ওরা শেষ খেলা খেলেছে। যাতে উল্টোপাল্টা বলে আমাদের কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়া যায়। আমার কাছে খবর আছে, শেয়ার মার্কেটকে সান্ত্বনা দিতে ওরা এটা করেছে।’
২০১৬ এবং ২০২১ সালের ভোটের ফলের আগে প্রকাশিত জরিপের কথাও মমতা মনে করিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, ‘গণনাকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। দরকারে আমিও আমার এলাকায় পাহারা দিতে নামব। প্রার্থীরা নিজে পাহারা দিন। রাত জাগুন। আমি যদি পারি, আপনারাও পারবেন। কারণ, গণনাকেন্দ্রে ইভিএম নিয়ে যাওয়ার সময় যন্ত্র বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাই এটা অবহেলা করবেন না। আমি যতক্ষণ সাংবাদিক বৈঠক করে না বলব, ততক্ষণ কেউ গণনার টেবিল ছাড়বেন না।’
গণনার দিন বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন মমতা। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন,‘গণনার সময় ঠায় বসে থাকবেন কেন্দ্রে। কাউকে শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য বা খাবার খাওয়ার জন্য উঠতে হলেও দুই মিনিটের বেশি নয়। এমন কাউকে ওই সময়ে বসিয়ে যাবেন, যিনি বিশ্বস্ত। টাকা দিয়ে যাকে কেনা যায় না।’