বাগেরহাট প্রতিনিধি:আইনি জটিলতার কারণে প্যারোল না পাওয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম তার স্ত্রী-সন্তানের লাশ দেখলেন জেলেগেটে। গতকাল বিকালে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার ফটকে শেষবারের মতো স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও ছেলে সেহজাদ হোসেন নাজিজের (৯ মাস) লাশ দেখেন। সাদ্দামের স্বজনরা জানান, চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার সাদ্দাম দীর্ঘদিন জামিন না পাওয়ায় তার স্ত্রী স্বর্ণালী চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরে শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে স্বামীর বাড়িতে বালতির পানিতে চুবিয়ে একমাত্র ছেলে হত্যার পর গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তবে স্বর্ণালীর বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার এ ঘটনাকে হত্যাকা দাবি করে গতকাল বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, ‘যেহেতু সাদ্দাম যশোর কারাগারে রয়েছেন, প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি যশোর জেলা প্রশাসনের এখতিয়ার।’ সাদ্দামের শ্যালক শুভ হাওলাদার বলেন, ‘সময় স্বল্পতার কারণে যশোরে প্যারোলের কোনো আবেদন করিনি। তবে শনিবার বিকালে যশোরে জেলগেটে নিয়ে শেষবারের মতো দুলাভাইকে তার স্ত্রী ও সস্তানের লাশ দেখিয়েছি।’
বাগেরহাট সদর থানার ওসি মাসুম খান বলেন, ‘সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় স্বর্ণালীর বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’