প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিজয় নিশ্চিত জেনে ঢাকা দখল শুরু


অনলাইন ডেক্স :

১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর দেশের বেশির ভাগ অঞ্চল দখলে নিয়ে নেয় মুক্তিবাহিনী। চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত জেনে শুরু হয় ঢাকা দখলের লড়াই। আগের দিন মুক্তিবাহিনীর পাশাপাশি মিত্র বাহিনীও এগোতে থাকে ঢাকার দিকে। এ দিন রাতে সেনানিবাসে প্রাদেশিক সরকারের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর সভাপতিত্বে আলবদর ও আলশামস বাহিনীর কেন্দ্রীয় অধিনায়কদের বৈঠক হয়। মূলত ওই বৈঠকেই চূড়ান্ত হয় বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা।

বৈঠক শেষে তৎকালীন বাংলাদেশের শীর্ষ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা হত্যাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেন ফরমান আলী। পরিকল্পনা মাফিক সে রাতেই আলবদর বাহিনী সাংবাদিক নিজামউদ্দিন আহমদ, আ ন ম গোলাম মোস্তফাকে তাদের বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। তাঁরা আর জীবিত ফিরে আসেননি।

জানা যায়, ১২ ডিসেম্বর ভোরে গোবিন্দগঞ্জ মুক্ত হয়। এর আগের রাতে মিত্রবাহিনী এবং কাদেরিয়া বাহিনী সম্মিলিতভাবে টাঙ্গাইলে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। প্রায় প্রতিটি জনপদ থেকেই তখন পিছু হটে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের গুপ্তচররা। তবে পালানোর সময়ও তাদের শেষ ধাপের নৃশংসতা চালিয়ে যেতে থাকে। তাদের গুলিবর্ষণ চলতে থাকে বেসামরিক মানুষের ওপর। হত্যাকাণ্ডের পর চালায় লুণ্ঠন, জ্বালিয়ে দেয় গ্রামের পর গ্রাম। এ দিন মিত্রবাহিনীর পূর্বাঞ্চলের অধিনায়ক জেনারেল অরোরা যৌথবাহিনীকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঢাকা মুক্ত করার নির্দেশ দেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, এদিন ঢাকা শহরের আশপাশে ছত্রীসেনা নামা শুরু করে। শুরু হয় ঢাকা দখলের চূড়ান্ত লড়াই ‘অপারেশন ঢাকা’। এ দিন ভৈবরবাজার থেকে অগ্রসর হওয়া মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী নরসিংদী পৌঁছায়। মেঘনা ও যমুনা নদী দ্রুত পার হওয়ার জন্য যুক্ত হয় হেলিকপ্টার। সম্মিলিত বাহিনীর প্রথম আক্রমণেই পাক হানাদারদের একজন অফিসারসহ ২৩ জন নিহত হয়। ধরা পড়ে ১২ জন খানসেনা।

অন্যদিকে জেনারেল মানেকশর আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া দিতে শুরু করে পাক হানাদার বাহিনী। ‘পূর্বখণ্ডে এ পর্যন্ত চার হাজার সৈন্যের আত্মসমর্পণ’ শিরোনামে আনন্দবাজারের অন্য এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, জেনারেল মানেকশ পাক সৈন্যদের আত্মসমর্পণের যে পরামর্শ দিয়েছিলেন, তা মেনে পূর্বখণ্ডে ১৬ জন অফিসার, ২৩ জন জেসিওসহ প্রায় চার হাজার পাকসৈন্য আত্মসমর্পণ করে।

  • সর্বশেষ