পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
আন্তর্জাতিক রিপোর্ট : চলমান ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য পারমাণবিক বিপর্যয় নিয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমান সংঘাত ভয়াবহ রূপ নিলে একটি ‘পারমাণবিক দুর্ঘটনা’ ঘটতে পারে, যার প্রভাব হবে দীর্ঘমেয়াদি ও বিধ্বংসী।
ডব্লিউএইচও’র ইস্টার্ন মেডিটেরানিয়ান অঞ্চলের পরিচালক হানান বালখি সম্প্রতি পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে পারমাণবিক দুর্ঘটনা বা হামলা। তিনি জানান, এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় এবং এর প্রভাব কয়েক দশক পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
এই সতর্কতা এমন সময় এসেছে, যখন গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা—নাতানজ, ইসফাহান ও ফোরডোতে হামলা চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এসব স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ইরান এখনো এ হামলার মানবিক ক্ষয়ক্ষতির কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।
হানান বালখি ইতিহাসের ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা এবং চেরনোবিল পারমাণবিক দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, 'এসব ঘটনার মতোই সম্ভাব্য বিপর্যয় শুধু তাৎক্ষণিক প্রাণহানি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ দূষণ, শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা এবং ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়াবে, যা কয়েক প্রজন্ম ধরে চলতে পারে।'
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইসরায়েল অঞ্চলটির একমাত্র ঘোষিত পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে।
যদিও আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইরান এখনো অস্ত্র তৈরির পর্যায়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেনি, তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশটিকে সেই পথে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।