অনলাইন ডেক্স :
রাজধানীর উপকণ্ঠে থাকা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা টাঙ্গাইলের জাতীয় নির্বাচনে বেশ উত্তাপ ছড়াচ্ছে। জেলার আটটি আসনের মধ্যে সাতটিতে আগেই এবং সর্বশেষ বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল-৫ আসনেও মনোনয়ন ঘোষণা করে বিএনপি। মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা মাঠে প্রচার চালালেও বঞ্চিতরাও সক্রিয়।
একদিকে বিএনপির বিদ্রোহী সম্ভাবনা, অন্যদিকে দুই আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তি-কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী ও তাঁর বড় ভাই সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সক্রিয় উপস্থিতি জেলাজুড়ে বাড়িয়েছে অনিশ্চয়তা। তাদের নির্বাচনী অবস্থান বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারেÑ এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় ভোটার থেকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র বলছে, টাঙ্গাইলের আট আসনে মোট ভোটার ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৯ জন। এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামী আটটি আসনেই পূর্বঘোষিত প্রার্থী নিয়ে প্রচারে নেমেছে। এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিসÑ সব দলই প্রার্থী নিয়ে মাঠে।
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) : সদর আসনের মতো জেলার রাজনীতিতে এ আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আওয়ামী লীগ ৮ বার, বিএনপি ৩ বার এবং জাসদ ১ বার নির্বাচিত হয়েছিল। এবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম (স্বপন)।
এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন দলের জেলা শাখার কর্মপরিষদ সদস্য মোন্তাজ আলী। এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা অলিক মৃ এ আসনে প্রার্থী হবেন বলে আলোচনা রয়েছে।
টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) : এ আসনে আওয়ামী লীগ ৬ বার, বিএনপি ৪ বার, জাসদ ও জাতীয় পার্টি (এরশাদ) একবার করে জয়লাভ করে। এবার এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু। প্রায় ১৭ বছর কারাভোগ শেষে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। তিনি এ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন। আব্দুস সালাম পিন্টু এ আসন থেকে তিনবার এমপি হয়েছিলেন। মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় পিন্টুর সমর্থকরা উঠান বৈঠক, মতবিনিময় সভা, গণসংযোগ, মিটিং-মিছিল করছেন।
দলের অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় স্বস্তির পরিবেশ বিরাজ করছে এ আসনে। তাঁর অনুপস্থিতিতে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন বর্তমান কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন (টুকু)। তিনি আবদুস সালামের ছোট ভাই।
অন্যদিকে একক প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা হুমায়ুন কবির প্রচার চালাচ্ছেন।
এ ছাড়া গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে দলটির দপ্তর সম্পাদক ও উচ্চতর সদস্য শাকিল উজ্জামান কাজ করছেন। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মুফতি আব্দুল মালেক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি ফজলে বারি ভূঞাপুরী প্রচার চালাচ্ছেন।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) : এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এসএম ওবায়দুল হক নাসির। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তিনি স্থানীয় নেতাকর্মী ও কমিটি নিয়ে জোরালোভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। করছেন মিটিং-মিছিল-শোডাউন। যোগ দিচ্ছেন সামাজিক অনুষ্ঠানে।
কিন্তু বিষয়টি সহজভাবে নেননি সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান (আজাদ) ও তাঁর অনুসারীরা। বিএনপির নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য মাইনুল ইসলামও মনোনয়ন প্রত্যাশী। মনোনয়ন না পাওয়া দুই নেতার কর্মী-সমর্থকরা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে এক হয়ে নানা কর্মসূচি পালন করছেন।
এ ছাড়া প্রচারে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সাইফুল্লাহ হায়দার, জমায়াতের হোসনী মোবারক বাবুল, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ঘাটাইল উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি বছির উদ্দিন বিল্পবী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ মওলানা রেজাউল করিম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী মোফাখ্খরুলল ইসলাম, জাকের পার্টির প্রার্থী আব্দুল আজিজ খান অটল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক শাহজাহান মিঞা।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) : এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিন। তবে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদও (টিটো) মনোনয়নপ্রত্যাশী
ছিলেন। স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ তাঁর পক্ষে রয়েছে। তিনি ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত সভা-সমাবেশ করছেন।
এদিকে এ আসনে বিএনপির প্রার্থীকে মোকাবিলা করতে হতে পারে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে। তিনি এ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ এক নেতা জানিয়েছেন। লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পাঁচবার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একবার (২০২৪) নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগে না থাকলেও দলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর তাঁর প্রভাব রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক।
এ ছাড়া প্রচারে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলী আমজাদ হোসেন ও খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি মুফতি আব্দুর রহমান মাদানী। এ ছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা প্রার্থী হতে পারেন।
টাঙ্গাইল-৫ (টাঙ্গাইল সদর) : আসনে বিএনপি গত বৃহস্পতিবার প্রার্থী ঘোষণা করে। এখানে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে।
এ ছাড়াও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন- জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, সাবেক সহ-সভাপতি ছাইদুল হক ছাদু এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আহমেদুল হক শাতিল।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি। বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। টাঙ্গাইলবাসী ভালোবেসে আমার প্রতি যে সমর্থন দেখিয়েছে সেটি আমি চিরদিন স¥রণ রাখব।
জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দলের জেলা আমির আহসান হাবীব মাসুদ নিয়মিত গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমাদের দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য দুর্নীতিমুক্ত টাঙ্গাইল গড়ে তোলা।
এ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনয়নপ্রত্যাশী মওলানা ভাসানীর নাতি আজাদ খান ভাসানী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সভাপতি আকরাম আলী, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ছানোয়ার হোসেন সরকার, বাংলাদেশ গণসংহতি আন্দোলনের সংগঠক ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ফাতেমা রহমান বীথি, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুবুর রহমান রাসেল ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ প্রার্থী মুফতি শরিফুল ইসলাম কাসেমী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) : বিএনপির নতুন মুখ কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রবিউল আওয়ালকে (লাভলু) মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত দলীয় সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যাচ্ছি। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমার আন্তরিকতা রয়েছে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. একেএম আব্দুল হামিদ। তিনি ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আঁখিনুর মিয়া।
এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের প্রার্থী দলের অঙ্গ সংগঠন শ্রমিক মজলিসের জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল মান্নান শেখ, এনসিপির প্রার্থী মেজর (অব.) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর সদস্য ও কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কবীর হোসেন এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ প্রার্থী মুফতি মাহফুজুর রহমান নিজ নিজ দলের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) : রাজধানী ঢাকার সীমান্তবর্তী এবং জেলার প্রবেশ দ্বার হওয়ায় টাঙ্গাইল-৭ নির্বাচনী আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশুবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি ১৯৯৬ সালে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ধানের শীর্ষের কর্মী-সমর্থক ও নেতাকর্মীদের নিয়ে আমি নির্বাচনী মাঠে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিনিয়তই সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছি।
এ আসনে একাধিক ব্যক্তি বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত হলেও হাল ছাড়েননি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক-বিষয়ক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব। তিনি মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার জন্য তার অনুসারীদের নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী টাঙ্গাইল জেলা শাখার কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল্লাহ তালুকদার। গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী জেলার সভাপতি মুফতি আবু তাহের তালুকদার ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এটিএম রেজাউল করিম আল রাজি।
টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) : বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আযম খান এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। এখানে অপর দুই মনোনয়নপ্রত্যাশী সখীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ হাবিবুর রহমান এবং শিল্পপতি সালাউদ্দিন রাসেল এক হয়ে সভা-সমাবেশ করে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।
মনোনয়নবঞ্চিতরা স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের হয়ে কাজ করছেন। এরই মধ্যে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক খালেক মণ্ডলের সঙ্গে কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্বে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন আযম খান। এই দ্বন্দ্বে এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ এনে নেতা-কর্মী বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন।
এ আসন থেকে নির্বাচন করবেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাদের সিদ্দিকী। তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিএনপির প্রার্থীকে একদিকে নিজ দলের ‘বিদ্রোহী এবং অপর দিকে কাদের সিদ্দিকীর মতো প্রার্থীকে মোকাবিলা করতে হবে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে টাঙ্গাইল জেলার সহকারী সেক্রেটারি ও বাসাইল উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম খান গণসংযোগ করছেন। এ ছাড়া এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কাজী মাওলানা আব্দুল লতিফ মিয়া, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শহীদুল ইসলাম ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি রুহুল আমিন নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।