বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে কিংবা শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালের মধ্যে লন্ডনে নেওয়া হবে। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলটির স্থায়ী কমিটি সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ কথা জানিয়েছেন।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল গেটের সামনে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, কাতারের একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লননে যাবেন খালেদা জিয়া। এরই মধ্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি কাতার থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওয়ানা করেছে।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় আমরা আশাবাদী। তিনি সুস্থ হয়ে আবারও দেশে ফিরবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা। যাত্রাপথে তার সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল সঙ্গে থাকবেন।’
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় এরই মধ্যই চীন ও যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দুটি দল ঢাকায় এসে এভারকেয়ার হাসপাতালে তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রাতে চীনা চিকিৎসকদের দ্বিতীয় দল হাসপাতালে পৌঁছে। চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ দলটি রাতেই মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে।
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে বুধবার সন্ধ্যায় এভারকেয়ার হাসপাতালে যান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। হাসপাতালে তাকে স্বাগত জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় সঙ্গে ছিলেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) টানা এক সপ্তাহ ধরে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গত ২৩ নভেম্বর হাসপাতালটিতে যান তিনি। সেদিন রাতে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে তাকে ভর্তি রাখা হয়। সেই থেকে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। ২৭ নভেম্বর তার অবস্থা সংকটাপন্ন হলে সিসিইউতে চিকিৎসা দিচ্ছে মেডিকেল বোর্ড। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চলছে তার চিকিৎসা।
উন্নত চিকিৎসার জন্য এর আগে গত জানুয়ারিতে লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সেখানে প্রথমে হাসপাতালে, পরে ছেলে তারেক রহমানের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন তিনি। প্রায় চার মাস লন্ডনে অবস্থানের পর গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন।