প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:১৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সিন্ডিকেট ভাঙতে দেশের সাপ্লাইচেইন এআই মডেলে অন্তর্ভুক্ত হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেট প্রতিনিধি:

সিন্ডিকেট ভাঙতে দেশের পুরো সাপ্লাইচেইন এআই মডেলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘এতে আমদানিকারক, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতাসহ সংশ্লিষ্ট সবার তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা বাজার মনিটরিং সহজ করবে।’

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সিলেট মহানগরীর টিলাগড়ে কৃষকের হাট উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টিসিবির কার্যক্রম জোরদার করা হবে। সরকার প্রতিবছর টিসিবিতে ৩২০০ থেকে ৩৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়, যা ধীরে ধীরে কমানো হবে।’ এ ছাড়া, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি বাংলাদেশ বেরিয়ে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত এবং ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী দামে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে সিলেটে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু হয়েছে ‘কৃষকের হাট’। সিলেট জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ‘সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নিরাপদ ও তাজা পণ্য’ স্লোগানে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রির সুযোগ পাবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য আনতে সরকার নানা ধরনের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। অনেক সময় উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কৃষিপণ্য চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়, ফলে অযৌক্তিকভাবে দাম বেড়ে যায়। ‘কৃষকের হাট’ এই মধ্যবর্তী স্তর কমিয়ে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত স্থানে সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে এই হাট বসবে, যেখানে কৃষকরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করবেন। প্রশাসনের নজরদারির কারণে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত খরচের সুযোগ থাকবে না।’

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াত এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামসুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

একই দিন দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু অবকাঠামো উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, শহরের বাইরে শিল্প ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এতে প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে।’

সিলেটে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে বলেও জানান তিনি। শহরবাসীর জন্য উন্মুক্ত স্থান ও বিনোদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, যা আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

  • সর্বশেষ