অনলাইন ডেস্ক
৩ মে ২০২৬
কাঁধ ও হাঁটু আমাদের শরীরের অত্যন্ত সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ জোড়া। তাই এ অঙ্গগুলোর যথাযথ যত্ন নেওয়া জরুরি। হঠাৎ পড়ে যাওয়া, খেলাধুলায় ধাক্কা খাওয়া, ভারী কিছু তোলা কিংবা দীর্ঘ সময় ভুল ভঙ্গিতে কাজ করার ফলে কাঁধ বা হাঁটুতে আঘাত লাগতে পারে। হাঁটুর ক্ষেত্রে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া, মেনিকাসে আঘাত বা বয়সজনিত অস্টিওআর্থ্রাইটিস ব্যথার প্রধান কারণ।
অন্যদিকে কাঁধে পেশি বা ল্যাব্রাম ইনজুরি, টেনডনে প্রদাহ (টেনডিনাইটিস) কিংবা জোড়া ছুটে যাওয়া (ডিসলোকেশন) থেকে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ওজন, নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব এবং বয়সজনিত ক্ষয়ও এসব সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
তীব্র ব্যথা, হঠাৎ ফুলে যাওয়া, জোড়া নাড়াতে অসুবিধা, হাঁটু লক হয়ে যাওয়া, কাঁধে ক্লিক শব্দ, জোড়া ছুটে যাওয়া, দুর্বলতা বা অস্থিরতা অনুভূত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আঘাতের পর প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে এবং আক্রান্ত স্থানে চাপ কম রাখতে হবে। দিনে কয়েকবার ১৫-২০ মিনিট করে বরফ সেঁক দেওয়া যেতে পারে।
প্রয়োজনে ইলাস্টিক ব্যান্ডেজ ব্যবহার করা যায় এবং হাঁটুর ক্ষেত্রে পা সামান্য উঁচুতে রাখা উপকারী। নিজে নিজে মালিশ করা বা জোর করে ব্যায়াম করা বিপজ্জনক হতে পারে।
হালকা থেকে মাঝারি আঘাতের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ও প্রদাহনাশক ওষুধ দেওয়া হয়। তবে সম্পূর্ণ বিশ্রামে না থেকে সীমিত নড়াচড়া বজায় রাখা জরুরি, যাতে জোড়া শক্ত হয়ে না যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী হাঁটুর জন্য নি-ব্রেস এবং কাঁধের জন্য সিøং ব্যবহার করা হয়, যা জোড়াকে স্থিতিশীল রাখতে এবং পুনরায় আঘাতের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
কাঁধ ও হাঁটুর আঘাত বা ব্যথা ব্যবস্থাপনায় ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ধাপে ধাপে ব্যথা কমানো, পেশি নমনীয় করা, শক্তি বৃদ্ধি এবং ভারসাম্য উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট ব্যায়াম করানো হয়। নিয়মিত ব্যায়াম না করলে ব্যথা পুনরায় ফিরে আসতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে প্রদাহ কমাতে ও টিস্যু পুনর্গঠনে সহায়তার জন্য স্টেরয়েড ইনজেকশন দেওয়া হয়।
যদি লিগামেন্ট সম্পূর্ণ ছিঁড়ে যায়, মেনিকাস গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা কাঁধের পেশি ও ল্যাব্রাম পুরোপুরি ছিঁড়ে যায়, তবে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে আর্থ্রোস্কোপিক পদ্ধতিতে ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করা হয়, যা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করে। তাই দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।