অনলাইন ডেস্ক
৮ মার্চ ২০২৬
শাবানা, ববিতা, সুবর্ণা মুস্তাফা, শাবনূর, মৌসুমী, পপিদের নিয়ে নির্মিত হয়েছে অনেক নারীপ্রধান চলচ্চিত্র। যেসব ছবি ঢাকাই ছবির সোনালি অতীতের সাক্ষী। এই ছবিগুলো কেবল ব্যবসায়িক সাফল্যের ক্ষেত্রেই ভূমিকা রাখেনি, নারীদের মধ্যে মনোবল সৃষ্টি কিংবা নানা জনমত গঠনেও ভূমিকা পালন করেছে। নারী দিবসে জেনে নেওয়া যাক নারীদের কথা বলা কিছু সিনেমার বিষয়ে। লিখেছেন- ফয়সাল আহমেদ
গোলাপী এখন ট্রেনে
১৯৭৮ সালে মুক্তি পাওয়া এই কালজয়ী চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন আমজাদ হোসেন। ববিতা অভিনীত ‘গোলাপী’ চরিত্রটি গ্রামীণ নারীর দারিদ্র্য ও সামাজিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক জীবন্ত প্রতিবাদ। ১২টি বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পাওয়া এই ছবি ববিতার ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। নারীর জীবনের অবর্ণনীয় সংগ্রাম ও টিকে থাকার লড়াই এতে নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ভাত দে
আমজাদ হোসেনের নির্দেশনায় ‘ভাত দে’ ছবিতে অভাবী বাউলের মেয়ে ‘জরি’ চরিত্রে অভিনয় করে শাবানা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্য অর্জন করেন। সহায়-সম্বলহীন এক দরিদ্র নারীর জীবনসংগ্রাম ও করুণ পরিণতি দর্শকদের কাঁদিয়েছিল। ছবিটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কারসহ মোট ৯টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করে এবং প্রথম বাংলাদেশি ছবি হিসেবে কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেয়।
সূর্য দীঘল বাড়ী
আবু ইসহাকের কালজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে মসিউদ্দিন শাকের ও শেখ নিয়ামত আলীর এই চলচ্চিত্র বাংলা সিনেমার এক অনন্য সম্পদ। দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে স্বামীপরিত্যক্তা জয়গুনের টিকে থাকার লড়াই মাতৃত্ব ও নারীত্বের এক চরম পরীক্ষা। জয়গুন চরিত্রে ডলি আনোয়ারের অনবদ্য অভিনয় আজও চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের কাছে বিস্ময় হয়ে আছে।
তিন কন্যা
১৯৮৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত শিবলি সাদিক পরিচালিত এই ছবি ছিল বাবা হারানো তিন বোনের জীবনের টানাপড়েন ও সংগ্রামের গল্প। ‘তিন কন্যা’ ছবিতে প্রধান তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বাস্তব জীবনের তিন বোন সুচন্দা, ববিতা ও চম্পা। পারিবারিক দায়বদ্ধতা ও নারীর আত্মনির্ভরশীলতার এক দারুণ উদাহরণ ছিল এই সিনেমা।
পালাবি কোথায়
শহীদুল ইসলাম খোকনের ‘পালাবি কোথায়’ (১৯৯৬) একটি কমেডিধর্মী ছবি হলেও এর গভীরে ছিল কর্মজীবী নারীর অধিকারের কথা। শাবানা, চম্পা ও সুবর্ণা মুস্তাফা কর্মক্ষেত্রে ও সমাজে নারীর প্রতিকূলতার বিষয়গুলো হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরেন। হুমায়ুন ফরীদি এই ছবির প্রযোজক ছিলেন এবং নিজেও একটি আইকনিক চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
মোল্লা বাড়ীর বউ
সালাহ উদ্দিন লাভলুর ‘মোল্লা বাড়ীর বউ’ (২০০৫) ধর্মান্ধ সমাজের বিরুদ্ধে নারীর প্রতিবাদের গল্প। এটি পুরোপুরি বাণিজ্যিক ঘরানার ছবি হলেও এর ভেতর দিয়ে নারীর অসহায়ত্ব ও পরে ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্র চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। মৌসুমী ও শাবনূরের প্রাণবন্ত অভিনয় ছবিটিকে বক্স অফিসে বিশাল সাফল্য এনে দেয়।
মায়ের অধিকার
১৯৯৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মায়ের অধিকার’ ছিল অন্যতম এক সফল নারীপ্রধান ছবি। শিবলি সাদিক পরিচালিত এই ছবিতে ববিতা একজন মায়ের সম্মান ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেন। সামাজিক অমর্যাদার বিরুদ্ধে সন্তানের মাধ্যমে একজন মায়ের জয়গান গাওয়াই ছিল এই ছবির মূল বৈশিষ্ট্য।
আম্মাজান
১৯৯৯ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত ‘আম্মাজান’ ছবিটি মা ও নারীর প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সন্তানের সামনে মায়ের সম্মানহানি ও তারই প্রতিশোধ নেওয়ার গল্প নিয়ে নির্মিত এই ছবিতে মান্নার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শবনম পারভীন। ছবিটি আকাশচুম্বী ব্যবসায়িক সফলতা অর্জন করে।
খাইরুন সুন্দরী
এ কে সোহেল পরিচালিত ‘খাইরুন সুন্দরী’ (২০০৭) গ্রামীণ নারীর প্রতি তার স্বামীর অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বিশ্বাসের এক ট্র্যাজিক কাহিনি। মৌসুমী ও ফেরদৌস অভিনীত এই ছবি রেকর্ড পরিমাণ ব্যবসা করেছিল। মমতাজের গাওয়া ‘খাইরুন লো’ গানটি আজও ছবিটির সমার্থক হয়ে আছে।
গেরিলা
মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নাসিরউদ্দিন ইউসুফের ‘গেরিলা’ ছবিতে জয়া আহসান অভিনীত ‘বিলকিস’ চরিত্রটি নারীর অসীম সাহসের প্রতীক। দেশের জন্য বিলকিসের গেরিলা যুদ্ধ ও আত্মত্যাগ ঢাকাই ছবিতে নারীকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ মোট ১১টি বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পাওয়া এই ছবি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের এক গর্ব।