প্রকাশিত : ০২ মার্চ, ২০২৬, ০৯:৪৯ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইরানে সর্বোচ্চ নেতা নির্ধারণ হয় যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০২ মার্চ ২০২৬

প্রায় ৩৭ বছর ক্ষমতায় থাকার পর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। গত শনিবার রাতে খামেনির মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই ইরানের শাসনব্যবস্থায় নেতৃত্বের উত্তরাধিকার নির্ধারণের বিষয়টি সামনে আসে। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে দেশটিতে সর্বোচ্চ নেতার পরিবর্তন মাত্র একবারই ঘটেছে।

বিপ্লবের রূপকার আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ১৯৮৯ সালে ৮৬ বছর বয়সে মারা গেলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলী খামেনি দায়িত্ব দেন। সেবার ধর্মীয় পরিষদ তাকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করে। যদিও তখন তিনি সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ধর্মীয় মর্যাদায় পৌঁছাননি। পরে সংবিধান সংশোধন করে তার নির্বাচনের পথ তৈরি করা হয়।

বার্তা সংস্থা এপি জানায়, বর্তমানে ইরানে একটি অস্থায়ী পরিষদ দায়িত্ব গ্রহণ করবে। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী ইতোমধ্যে তিন সদস্যের এই পরিষদ গঠিত হয়েছে। তারা দেশের শাসনকার্য ও নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবে। পরিষদে অন্তর্ভুক্ত ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি ইজেজি ও এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল মনোনীত অভিভাবক পরিষদের সদস্য আলী রেজা আরাফি।

অন্তর্বর্তী সময়ে অস্থায়ী পরিষদ শাসনভার গ্রহণ করলেও, ইরানের আইন অনুসারে ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেল যত দ্রুত সম্ভব নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে। এই প্যানেলটি সম্পূর্ণ শিয়া ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে গঠিত হয়। এই প্যানেলের সদস্যরা প্রতি আট বছর পরপর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। তবে তাদের প্রার্থিতা অনুমোদিত হতে হয় সাংবিধানিক নজরদারি সংস্থা ‘অভিভাবক পরিষদের’ মাধ্যমে। এই সংস্থাটি কোনো প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করার ক্ষমতা রাখে।

সংবিধান অনুযায়ী, এই প্যানেলই নতুন নেতা নিয়োগ দেবে। যদিও আইনে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তবে কোনো প্রার্থী দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে তাত্ত্বিকভাবে এই অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদই অনির্দিষ্টকালের জন্য ইরান শাসন করতে পারে। বিশেষজ্ঞ প্যানেলের আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা থাকলেও চূড়ান্তভাবে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইসলামী বিপ্লবী গার্ডসহ সব সংস্থার কাছে উত্তরসূরিকে গ্রহণযোগ্য হতে হবে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়