প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৫:০৩ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ই-রিটার্ন জটিলতায় সময় বৃদ্ধির দাবি জানাল ৬৬টি ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশন


অ্যাডভোকেট জসীম উদদীন :
আয়কর আইন ২০২৩-এর ব্যাপক সংশোধনী, পরিপত্র বিলম্বে প্রাপ্তি, ই-রিটার্ন সার্ভারের  প্রযুক্তিগত ত্রুটি, দেশব্যাপী নেটওয়ার্কিং সমস্যার কারনে আয়কর রিটার্ন দাখিল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জাতীয় অর্থনৈতিক সংকটের কারণে করদাতাদের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব হচ্ছে না। করদাতাদের ভোগান্তি কমানোর জন্য জরিমানা ব্যতীত রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আরও দুই মাস—অর্থাৎ ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত—বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে দেশের ৬৬টি ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশন। দেশের জেলা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশনগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন দিয়েছে। ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু নাসের মজুমদার মেজবাহ-এর দাখিল করা আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন, আসন্ন পবিত্র মাহে রমজান পালন ও ঈদ-উল-ফিতর উদ্যাপনের প্রস্তুতি, আয়কর আইন ২০২৩-এর ব্যাপক সংশোধনী, পরিপত্র বিলম্বে প্রাপ্তি, ই-রিটার্ন সার্ভারের নানাবিধ কারিগরি সমস্যা, দেশব্যাপী নেটওয়ার্কিং সমস্যা, ই-রিটার্ন কার্যক্রম সম্পর্কে করদাতা ও আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব রয়েছে। দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকটে করদাতাদের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে নির্ধারিত সময়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাস্তবসম্মতভাবে সম্ভব হচ্ছে না। নবনির্বাচিত সরকারের নীতিমালা অনুসরণে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং করদাতাদের সুবিধার্থে জরিমানা ছাড়াই ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় আরও ২ (দুই) মাস বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
ভোলা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশনের নেতা অ্যাডভোকেট মো: আলাউদ্দিন আয়কর বার্তাকে বলেন, ই-রিটার্ন সফটওয়্যার কার্যক্রমে মাঝেমধ্যে গতি কমে যাওয়ায় ইনপুট দেওয়া তথ্য মুছে যাচ্ছে, যা করদাতাদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হচ্ছে। এনআইডি সার্ভার ও ই-রিটার্ন সার্ভার একীভূত হওয়ায় করদাতাদের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পেতে বিলম্ব হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল সিম বায়োমেট্রিক না থাকায় করদাতারা ই-রিটার্ন সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারছেন না। সিম বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করা বা নতুন সিম নিবন্ধনে দীর্ঘ সময় লাগছে। পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সার্ভারের বিভিন্ন কারিগরি সমস্যার কারণে নিরবিচ্ছিন্নভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন কর আইনজীবী ও পেশাজীবী সংগঠন ইতোমধ্যে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত সময় বাড়ানোর দাবিতে এনবিআরের কাছে আবেদন করেছে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বিশ্বস্ত সূত্র আয়কর বার্তাকে জানায়, প্রত্যাশিত হারে রিটার্ন দাখিল না হওয়া এবং ই-রিটার্ন সার্ভারের মারাত্মক সমস্যার কারণে সময়সীমা আরও এক মাস—অর্থাৎ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত—বাড়ানো হতে পারে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সার্কুলার জারি করা হবে না।

আয়কর আইন ২০২৩-এর ৩৩৪ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জরিমানা ব্যতীত ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতা ও অ্যাসোসিয়েশন অব পার্সন (এওপি)-এর ক্ষেত্রে সময়সীমা বাড়ানোর ক্ষমতা এনবিআর চেয়ারম্যানের রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা তৃতীয় দফায় বাড়ানো হয়েছে। ফলে ব্যক্তি করদাতা ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (এইচইউএফ) জরিমানা ছাড়া আগামী ২৮ ফেব্রুয়রি  ২০২৬ পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। এ সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে কোনো জরিমানা দিতে হবে না। সাধারণত আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩০ নভেম্বর। দেশে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং জনসাধারণের ঝামেলামুক্তভাবে রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছরই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একাধিকবার সময়সীমা বাড়িয়ে থাকে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়