প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ই-রিটার্ন সার্ভার বিপর্যয়ে করদাতারা চরম ভোগান্তিতে

মামুনুর রশিদ :

অনলাইন সার্ভারের দুর্বলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের শেষ প্রান্তে এসে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন না অসংখ্য করদাতারা। ই-রিটার্ন সিস্টেমে লগইন করার পর বারবার “সিস্টেম সাময়িকভাবে আপনার অনুরোধটি প্রক্রিয়া করতে পারছে না (System is unable to process request temporarily)” এবং PROTECTED BY RE CAPTCHA, PRIVACY TERMS, ক্যাপচা–সংক্রান্ত ত্রুটি বার্তা প্রদর্শিত হওয়ায় রিটার্ন দাখিল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, গত ২০ জানুয়ারি ২০২৬ দুপুর ১টা ২০ মিনিট থেকে এ সমস্যা শুরু হয়ে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সারাদিন ব্যক্তি করদাতা ও করদাতা প্রতিনিধিরা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর একজন কর্মকর্তা আয়কর বার্তাকে জানান, রাজস্ব বোর্ডকে বেকায়দায় ফেলতে একটি অসাধু চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে সার্ভার অচল করে রাখছে। তাঁর ভাষ্যমতে, অনলাইন ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে করদাতাদের ম্যানুয়াল রিটার্ন দাখিলে বাধ্য করতেই এ ধরনের অপকৌশল নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে ই-রিটার্ন সংক্রান্ত সেবা নম্বর ০৯৬৪৩৭১৭১৭১-এ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ৩টা ১০ মিনিটে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আয়কর বার্তাকে জানায়, ই-রিটার্ন সফটওয়্যার আপডেটের কাজ চলছে। এ কারণে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে, তবে দুই-এক দিনের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ নেটওয়ার্ক সুবিধা পাওয়া যাবে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা দ্বিতীয় দফায় বাড়ানো হয়েছে। ফলে ব্যক্তি করদাতা ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (এইচইউএফ) জরিমানা ছাড়া আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। এ সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে কোনো জরিমানা দিতে হবে না। সাধারণত আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ দিন থাকে ৩০ নভেম্বর; তবে প্রতিবছরই এনবিআর একাধিকবার সময়সীমা বাড়িয়ে থাকে।

ই-রিটার্ন সিস্টেমে চলমান ত্রুটির কারণে করদাতাদের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জরিমানা ব্যতীত রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আরও দুই মাস—অর্থাৎ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত—বাড়ানোর দাবিতে গত ১৪ জানুয়ারি আবেদন করেছে ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশন। আবেদনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু নাসের মজুমদার মেজবাহ উল্লেখ করেন, দেশে চলমান রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ২০২৬, আয়কর আইন ২০২৩-এর ব্যাপক সংশোধনী, পরিপত্র বিলম্বে পাওয়া, ই-রিটার্ন সার্ভারের নানাবিধ সমস্যা, দেশব্যাপী নেটওয়ার্কিং জটিলতা, ই-রিটার্ন বিষয়ে করদাতা ও আইনজীবীদের পর্যাপ্ত দক্ষতার অভাব এবং বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে রিটার্ন দাখিল করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না। এসব বিবেচনায় রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি ও করদাতাদের সুবিধার্থে জরিমানা ব্যতীত সময়সীমা আরও দুই মাস বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়।


ভোলা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশনের নেতা মো: জসীম উদদীন আয়কর বার্তাকে বলেন, এনআইডি সার্ভার ও ই-রিটার্ন সার্ভার একীভূত হওয়ার কারণে করদাতাদের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পেতে সময় লাগছে। অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল সিম বায়োমেট্রিক না থাকায় ই-রিটার্নে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। সিম বায়োমেট্রিক করা বা নতুন সিম নিবন্ধনে দীর্ঘ সময় লাগছে। পাশাপাশি রাজস্ব বোর্ডের সার্ভারের নানাবিধ সমস্যার কারণে নিরবিচ্ছিন্নভাবে রিটার্ন দাখিল সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন কর আইনজীবী ও পেশাজীবী সংগঠন ইতোমধ্যে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সময় বাড়ানোর দাবিতে এনবিআরের কাছে আবেদন করেছে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বিশ্বস্ত সূত্র আয়কর বার্তাকে জানায়, প্রত্যাশিত হারে রিটার্ন দাখিল না হওয়া এবং ই-রিটার্ন সার্ভারের মারাত্মক সমস্যার কারণে সময়সীমা আরও এক মাস—অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত—বাড়ানো হতে পারে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সার্কুলার জারি করা হবে না।


আয়কর আইন ২০২৩-এর ৩৩৪ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জরিমানা ব্যতীত ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতা ও অ্যাসোসিয়েশন অব পার্সন (এওপি)-এর ক্ষেত্রে সময়সীমা বাড়ানোর ক্ষমতা এনবিআর চেয়ারম্যানের রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়