প্রকাশিত : ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:৫০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আর্থিক ঘাটতিতে ‘পঙ্গু’ জাতিসংঘ: গুতেরেসের হুঁশিয়ারি

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

বিশ্ব সংস্থা জাতিসংঘ এক ভয়াবহ ও নজিরবিহীন আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, যা সংস্থাটিকে চূড়ান্ত স্থবিরতা বা অচল হয়ে যাওয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সদস্য দেশগুলো যদি তাদের বকেয়া চাঁদা দ্রুত পরিশোধ না করে এবং জাতিসংঘের প্রচলিত আর্থিক নিয়মে আমূল পরিবর্তন আনা না হয়, তবে অচিরেই এই বিশ্ব সংস্থাটি তার স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা হারাবে। মহাসচিবের এই বার্তায় বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, সংস্থাটির তহবিলের অবস্থা এখন এমন এক সংকটময় পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে এখনই তাদের বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের দৈনন্দিন কার্যক্রম চালানোর মতো প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ বা তারল্য শেষ হয়ে যেতে পারে। তিনি আরও জানান যে, বিগত বছরগুলোতে যে ধরণের আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সাল শেষে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে জাতিসংঘের রেকর্ড ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার চাঁদা বকেয়া হিসেবে জমা পড়েছে।

এই তীব্র আর্থিক সংকটের মূলে বর্তমান জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা থেকে অর্থায়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা এবং বিকল্প বৈশ্বিক উদ্যোগ চালুর বিষয়টি এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, বড় রাষ্ট্রগুলোর এমন অনীহা ও অর্থায়ন বন্ধের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন বাস্তবায়ন এবং বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষার কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করবে। বর্তমানে জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোর জিডিপি ও ঋণের সক্ষমতা বিবেচনা করে বার্ষিক চাঁদা নির্ধারিত হয়, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ এবং চীন ২০ শতাংশ অর্থায়ন করে থাকে।

 

মহাসচিব তাঁর চিঠিতে জাতিসংঘের একটি প্রাচীন ও প্রচলিত নিয়মের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতি বছর অব্যবহৃত অর্থ সদস্য দেশগুলোকে ফেরত দেওয়ার যে নিয়মটি বর্তমানে চালু আছে, তা বর্তমান বাস্তবতায় অবাস্তব ও ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে সংস্থার হাতে পর্যাপ্ত অর্থই নেই, সেখানে অর্থ ফেরত দেওয়ার এই আইনি প্রক্রিয়াটি জাতিসংঘকে এক অদ্ভুত ও প্রতিকূল আর্থিক চক্রে আটকে ফেলেছে। ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৬টি দেশ ২০২৬ সালের চাঁদা পূর্ণাঙ্গভাবে পরিশোধ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রধান এই সংস্থাটি তার অস্তিত্ব রক্ষার এক কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। মূলত বড় দেশগুলোর রাজনৈতিক মেরুকরণ ও আর্থিক অনিচ্ছাই আজ জাতিসংঘকে পঙ্গুত্বের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়