উপদেষ্টা মাহদী আমিন : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১০ উপদেষ্টার দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। তাদের মধ্যে উপদেষ্টা মাহদী আমিনকে চারটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের।
মাহদী আমিন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন, ছিলেন মুখপাত্র। দক্ষিণ এশিয়ার আর্থসামাজিক উন্নয়ন নীতিমালা নিয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে মাহদী আমিন সম্পৃক্ত। তারেক রহমান যখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন তার শিক্ষা ও গবেষণা উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন মাহদী আমিন। ২০২৪ সালে বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটিতে তাকে সদস্য করা হয়।
উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর মঙ্গলবার ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মাহদী আমিন। তিনি লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে আমার কাজের যে ব্যাপ্তি, তার অংশ হিসেবে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জনগণের নেতা তারেক রহমানকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। আলহামদুলিল্লাহ।’
এরআগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট দিয়ে তিনি লেখেন, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় ও নেতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, আলহামদুলিল্লাহ।
‘আমাদের আজকের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে পথচলা ২০১১ সাল থেকে’ উল্লেখ করে তিনি আরও লেখেন, বিভিন্ন সেক্টরের পলিসি নিয়ে ও বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরে তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। প্রথম তার উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্তির সময় তিনি ছিলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। সে সময় আমরা আবেগাপ্লুত হয়ে তাকে ‘দেশনায়ক’ বলে সম্বোধন করতাম; তবে তার নির্দেশে তা থেকে বিরত থাকি। ২০১৮ সালে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চলতি বছর তিনি (তারেক রহমান) দলের চেয়ারম্যান হন। পরে (গত ১৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন, যা দেশের ইতিহাসে এক চিরস্মরণীয় অধ্যায়।
তিনি লেখেন, গত এক যুগ ধরে একজন উপদেষ্টা হিসেবে আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তার পাশে থেকে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমার সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণের যে প্রত্যয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এগিয়ে যাচ্ছেন, সেখানে ইনশাআল্লাহ, সামান্য ভূমিকা রাখার সুযোগও আমার জন্য পরম প্রাপ্তি হবে। ২০১৪ সালে আজকের প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উপদেষ্টা হিসেবে প্রথম নিয়োগের পর যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলাম, এই ভিডিওর সেই প্রতিটি শব্দ ও মর্মার্থ আজও আমি একইভাবে ধারণ করি। দল, মত, পথ, আদর্শ ও বিশ্বাস নির্বিশেষে, আপনাদের সবার দোয়া কামনা করছি।