আয়কর বার্তা ডেস্ক: চলতি বছর বিশ্বের সামনে বড় জলবায়ু ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’র সম্ভাবনা। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, এটি ঘটলে সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র এল নিনো হতে পারে, যার প্রভাব কয়েক বছর ধরে বৈশ্বিক আবহাওয়ায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
এল নিনো হলো নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, যা বৈশ্বিক আবহাওয়ার ভারসাম্য নষ্ট করে। সাধারণত এটি কয়েক বছর পরপর ঘটে এবং কয়েক মাস স্থায়ী হয়। তবে ‘সুপার এল নিনো’ হলে সমুদ্রের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে যায়, যার প্রভাব হয় দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র।
বিজ্ঞানী পল রাউন্ডি সতর্ক করে বলেছেন, প্রায় দেড়শ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো দেখা দিতে পারে, যা খরা, বন্যা, তাপপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো চরম আবহাওয়া বাড়িয়ে দেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক খাদ্যব্যবস্থাও চাপের মুখে পড়তে পারে। অস্বাভাবিক আবহাওয়ার কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আঞ্চলিকভাবে এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার কিছু অঞ্চলে খরা দেখা দিতে পারে, অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার কিছু এলাকায় অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়বে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে পারে, আর আটলান্টিক অঞ্চলে তা তুলনামূলক কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব বাড়ায় প্রতিটি নতুন এল নিনো আগের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা সৃষ্টি করছে।
আবহাওয়াবিদ এরিক ওয়েব জানান, জলবায়ু ব্যবস্থার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন বৈশ্বিক তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হতে পারে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিকে আরও গভীর করবে।