প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩১ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঘুমের সমস্যা ম্যাগনেসিয়াম ঘাটতির কারণে নয় তো

অনলাইন ডেস্ক

২৮ এপ্রিল ২০২৬

ঘুম ঠিকমতো হচ্ছে, নাকি শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি- এ প্রশ্ন এখন অনেকের জন্যই প্রাসঙ্গিক। ম্যাগনেসিয়াম মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। ম্যাগনেসিয়াম মস্তিষ্ক শান্ত রাখতে সাহায্য করে। কারণ এটি নিউরোট্রান্সমিটারের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে উত্তেজনামূলক সংকেত কমায়। এখানে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, নিউরোট্রান্সমিটার হলো GABA (গামা-অ্যামিনোবিউটারিক অ্যাসিড), যা ঘুম নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। শরীরে GABA-এর মাত্রা ঠিক থাকলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে শান্ত হয় এবং ঘুম আসে। কিন্তু ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে GABA-এর কার্যকারিতা কমে যায়। ফলে ‘ক্লান্ত কিন্তু ঘুম আসছে না’- এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। শুধু ঘুমিয়ে পড়া নয়, ঘুমের গুণগত মানও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণায় দেখা গেছে, ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে গভীর ঘুম বা সেøা-ওয়েভ সিøপের সময় বাড়তে পারে। এ পর্যায়ে শরীর কোষ মেরামত করে, স্মৃতি সংরক্ষণ করে এবং মস্তিষ্কের বর্জ্য পদার্থ দূর করে। যাদের শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের অভাব থাকে, তারা শুধু ঘুমাতে দেরি করেন না, রাতে বারবার জেগে ওঠেন বা সকালে ক্লান্ত অনুভব করেন। এই ঘাটতি পূরণ করা গেলে এসব সমস্যা অনেকটাই কমে যেতে পারে। ম্যাগনেসিয়াম কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। কর্টিসল সাধারণত সকালে বেশি থাকে, যা আমাদের জাগিয়ে তোলে; কিন্তু রাতে এর মাত্রা বেশি থাকলে ঘুম ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি থাকলে স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়। ফলে রাতে কর্টিসল বেড়ে গিয়ে ঘুম হালকা ও অস্থির হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া ম্যাগনেসিয়াম শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক রাখতে সাহায্য করে, যা আমাদের ঘুম ও জাগরণের সময় নির্ধারণ করে। এর ফলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম আসা এবং সকালে সতেজভাবে জেগে ওঠা সহজ হয়। ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে এ ছন্দ বিঘ্নিত হয়ে ঘুমের সময়সূচি এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া সম্ভব। বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার, যেমন- কুমড়োর বীজ, পোস্তদানা, তিল এবং লাল শাকের বীজে উচ্চমাত্রায় ম্যাগনেসিয়াম থাকে। শাকসবজির মধ্যে পালংশাক, লেটুস, লালশাক ও ডাঁটাশাক ভালো উৎস। শস্যজাতীয় খাবারের মধ্যে কিনোয়া, লাল চাল ও লাল আটায় প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়। সামুদ্রিক মাছের মধ্যে টুনা মাছ ভালো উৎস। আর ফলের মধ্যে আম, আঙুর, আনারস, বেদানা, লিচু, কলা ও পেঁপে উল্লেখযোগ্য।

বয়সভেদে দৈনিক ম্যাগনেসিয়ামের চাহিদা ভিন্ন হয়। শূন্য থেকে ৬ মাস বয়সী শিশুর জন্য ৩০ মিলিগ্রাম, ৭-১২ মাসে ৭৫ মিলিগ্রাম, ১-৩ বছরে ৮০ মিলিগ্রাম, ৪-৮ বছরে ১৩০ মিলিগ্রাম এবং ৯-১৩ বছরে ২৪০ মিলিগ্রাম প্রয়োজন। ১৪-১৮ বছর বয়সী ছেলের জন্য ৪১০ মিলিগ্রাম ও মেয়ের জন্য ৩৬০ মিলিগ্রাম দরকার হয়। ১৯-৩০ বছর বয়সী পুরুষের জন্য ৪০০ মিলিগ্রাম, নারীর জন্য ৩১০ মিলিগ্রাম প্রয়োজন, ৩১-৫০ বছর বয়সী পুরুষের জন্য ৪২০ মিলিগ্রাম ও নারীর জন্য ৩২০ মিলিগ্রাম দরকার। ৫১ বছরের বেশি বয়সে পুরুষের জন্য ৪২০ মিলিগ্রাম এবং নারীর জন্য ৩২০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম প্রয়োজন।

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেকেই ঘুমের সমস্যা স্বাভাবিক মনে করেন, কিন্তু এর পেছনে পুষ্টির ঘাটতি, বিশেষ করে ম্যাগনেসিয়ামের অভাব থাকতে পারে। তাই সুষম খাদ্যাভ্যাসে ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যুক্ত করা শুধু ভালো ঘুমের জন্য নয়, সামগ্রিক সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ছোট খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনই এনে দিতে পারে গভীর ও প্রশান্ত ঘুম।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়